প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:২১ পিএম
দিল্লিতে বিবিসির কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমের কর্মীরা। ১৫ ফেব্রুয়ারি। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মুম্বাই ও দিল্লিতে অবস্থিত ব্রিটিশ সম্প্রচার মাধ্যম বিবিসির কার্যালয়ে টানা তৃতীয় দিন তল্লাশি চালানো হয়েছে। কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রচার মাধ্যমটির কার্যালয়ে ভারতের আয়কর বিভাগ বৃহস্পতিবার টানা তৃতীয় দিন এ তল্লাশি চালিয়েছে।
ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ অভিযান প্রতিশোধমূলক নয়। এর সঙ্গে গুজরাট দাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিবিসির সম্প্রতি মুক্তি দেওয়া ডকুমেন্টারির কোনো সম্পর্ক নেই।
কিন্তু দেশটির বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, না এ তল্লাশির সঙ্গে ওই ডকুমেন্টারির সম্পর্ক আছে। অন্য গণমাধ্যমগুলোকে ভয় দেখাতেই এ তল্লাশি চালানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া ‘সার্ভে অপারেশন’ নামের ওই তল্লাশি সম্পর্কে ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কাঞ্চন গুপ্তা বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেন, বিবিসির ডকুমেন্টারি ও আয়কর বিভাগের তদন্তের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।
স্ক্রলডটইন জানায়, অন্যদিকে মঙ্গলবার দেশটির সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তল্লাশি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, কর ফাঁকি দেওয়ার বিষয় খতিয়ে দেখতে এ তল্লাশি চলছে। শুধু বিবিসির বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোয় তল্লাশি চলছে। কোম্পানিটির অন্য কোনো কার্যালয়ে তা হচ্ছে না।
ভারতে নিজেদের কার্যালয়ে তল্লাশি নিয়ে বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের পরিচালক লিলিয়ানে লেন্ডর কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে (মেমো) বলেন, আপনাদের কাউকে যদি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সৎভাবে সরাসরি উত্তর দেবেন। ভারতে বিবিসির গঠন, তৎপরতা, সংগঠন ও কার্যক্রম নিয়ে কোনো কিছু লুকানোর দরকার নেই। আপনারা নিজেদের কম্পিউটার বা অন্য কোনো যন্ত্র থেকে কোনো তথ্য মুছে দেবেন না।
এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বিবিসির কার্যালয়ে ভারত সরকারের তল্লাশি নিয়ে বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও ভারতের বিরোধী দলের নেতারা বিবিসির কার্যালয়ে তল্লাশির নিন্দা জানিয়েছেন। মোদিকে নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ ধরনের তল্লাশি ভয় দেখানোর নামান্তর বলে মনে করেন তারা।
বিবিসির ডকুমেন্টারি
২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে গত জানুয়ারিতে দুই পর্বের একটি ডকুমেন্টারি মুক্তি দিয়েছে বিবিসি। ইন্ডিয়া : দ্য মোদি কোয়েশ্চন নামের ওই ডকুমেন্টারিতে দাবি করা হয়, দাঙ্গার সঙ্গে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন চালিয়েছেন, তাদের দায়মুক্তি দিতে সহায়তা করেছেন তিনি।
গত ১৭ ও ২৪ জানুয়ারি মুক্তি দেওয়া দুই পর্বের ডকুমেন্টারিতে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ সরকারের একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। ২০০২ সালের দাঙ্গার পরপরই দেশটির একটি সরকারি তদন্ত দল ওই প্রতিবেদন তৈরি করে।
কিন্তু এতদিন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়নি। এতে দাবি করা হয়, গুজরাট দাঙ্গায় জাতিগত নির্মূলের সমস্ত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে পুলিশকে মোদি হুকুম দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির ওই ডকুমেন্টারিতে।
ডকুমেন্টারিটা প্রকাশের পরপরই তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে বিজেপি সরকার। তাদের দাবি, ডকুমেন্টারিটা ভিত্তিহীন। ভারতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা।
তা ছাড়া ডকুমেন্টারিটার প্রচার, প্রদর্শনী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মোদি সরকার।
সূত্র : স্ক্রলডটইন