× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাকিস্তানে বন্যা

বাঁচার আকুতি ভেসে আসছে চিরকুটে

প্রবা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২২ ১৫:০১ পিএম

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২ ২৩:৫২ পিএম

অপেক্ষায় বন্যার্তরা। ছবি : বিবিসি।

অপেক্ষায় বন্যার্তরা। ছবি : বিবিসি।

‘আমার বাড়ি নদীর ওপারে, সেখানে আছে আমার সন্তানরা। গত দুদিন ধরে আমি অপেক্ষা করছি সরকারি কোনো দল এসে সেতু ঠিক করবে, আর আমি আমার সন্তানের কাছে ফিরতে পারব। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে, বাড়ি পৌঁছানোর জন্য আমাদের পাহাড়ের অন্য পাশ দিয়ে হাঁটা শুরু করা উচিত। কিন্তু এতে আট থেকে দশ ঘণ্টা হাঁটতে হবে। আমি  বৃদ্ধা, কীভাবে এতটা পথ হাঁটব?’

বেশিক্ষণ কথা বলতে পারেননি বয়স্ক এই নারী। এরই মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে তাকে আবার আশ্রয়ের খোঁজে চলে যেতে হয়।  

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মনুর উপত্যকায় প্রবল বৃষ্টির কারণে শুক্রবার থেকে শুরু হয় আকস্মিক বন্যা। পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় স্থান এ উপত্যকাটি। প্রবল বন্যায় এখানে নারী ও শিশুসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কমপক্ষে ১০টি সেতু ও কয়েক ডজন ভবন ধ্বংস হয়েছে। যে কারণে নদীর অপর প্রান্তে আটকা পড়েছেন শত শত মানুষ।

এ বৃদ্ধার মতোই নদীর ওপারে থাকা নিজেদের বাড়ি এবং আপনজনের কাছে ফেরার অপেক্ষা করছেন অনেকে।

বিবিসির সাংবাদিকদের একটি দল বন্যাকবলিত গ্রামে পৌঁছে এমন পরিস্থিতি দেখতে পায়। মানুষের দল দেখলেই মানুষ ভাবছেন সরকারি উদ্ধারকর্মীরা এসেছেন তাদের উদ্ধার করতে। বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কাজ করছে না মোবাইল নেটওয়ার্কও। যোগাযোগের অন্য কোনো উপায় না থাকায় তারা সহায়তা চেয়ে হাতে লেখা ছোট ছোট চিরকুট ছুড়ে দিচ্ছেন নদীর ধারে। পানিতে পড়ে যাতে নষ্ট না হয় সে কারণে প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে ছোড়া হচ্ছে চিরকুটগুলো।

বন্যাকবলিত গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের হাতে আসা এমনই ছোট চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমাদের ত্রাণসামগ্রী দরকার, ওষুধ দরকার। দয়া করে আমাদের সেতু পুনর্নির্মাণ করে দিন। আমাদের কাছে এখন আর কিছুই নেই।’

হাতে লেখা চিরকুটগুলো বন্যাকবলিত মানুষের ক্ষতি আর দুর্ভোগের তথ্য তুলে ধরে।

আব্দুল রশীদ বলেন, আমার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন মালবাহী গাড়িটি বন্যায় ভেসে গেছে। আমাদের এখন ত্রাণ এবং রাস্তা দরকার।

এখানে আরও অনেক মানুষ আছেন যাদের জমিজমা, উপার্জনের উপায় শেষ হয়ে গেছে। এখানে একটি বাজার ছিল তাও ভেসে গেছে বন্যায়। লোকজনের এখন খাবার দরকার, সহায়তা দরকার।

সোহেল এবং তার ভাইয়ের একটি মোবাইল সারানোর দোকান ছিল, যা বন্যায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

তিনি বিবিসিকে জানান, তিনটি পরিবারকে চালানোর দায়িত্ব তার। এখন তিনি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিতায় পড়েছেন।

তিনি বলেন, আমি জানি না এখন কী করব। কেউ আমাদের সাহায্য করতে আসছে না। অথচ এখানে যাদের দোকান বন্যায় ধ্বংস হয়ে গেছে সবাই গবির কিন্তু সবার ঘাড়ে বড় পরিবার চালানোর দায়িত্ব রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ ও রাজনীতিবিদরা এখানে কেবল ফটোসেশন করতে আসছেন। তারা আসছেন, ছবি তুলছেন এবং চলে যাচ্ছেন। কেউ আমাদের সাহায্য করছেন না। এভাবেই নিজের আক্ষেপের কথা বলেন তিনি।

তবে জেলার ডেপুটি কমিশনার বিবিসিকে জানিয়েছেন, এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান চালানো হয়েছে। এরই মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। বর্ন্যাতদের শিগগিরই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

বন্যার জন্য সরকার জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করলেও এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, নদীর তীরে হোটেল নির্মাণের জন্য এমন পরিস্থিতি হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে হোটেল নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দূষছেন তারা।

কাগানের মূল বাজারের এক বাসিন্দা বলেন, হোটেল ও বাজারগুলো প্রাকৃতিক জলপথগুলোকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। এগুলো না থাকলে বন্যার হাত থেকে সহজে রক্ষা পাওয়া যেত।

কাগানের কুনহার নদীর তীরে এবং সংলগ্ন উপত্যকায় অনেক হোটেল তৈরি করা হয়েছে। বন্যায় কিছু হোটেল ধ্বংস হয়ে গেছে, যার মধ্যে একটি থানা এবং একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়ও রয়েছে।

প্রবল বৃষ্টি ও বন্যা তাণ্ডব চালাচ্ছে পাকিস্তানজুড়ে। এতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তত সাত লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

লাখ লাখ মানুষ খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং আশ্রয়ের জন্য অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে উদ্ধারকারী দলগুলো বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে খাইবার পাখতুনখোয়ার পার্বত্য অঞ্চলগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাকিস্তানে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। তবে গ্রীষ্মে এমন পরিস্থিতি কখনো হয় না। ধারাবাহিক অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৬ আগস্ট) দেশটিতে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে সরকার।  একে জলবায়ুজনিত মানবিক সংকট বলে উল্লেখ করে পাকিস্তান সরকার প্রতিবেশী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর কাছে এ বিপর্যয় মোকাবিলা করতে সহায়তা চেয়েছে।

প্রবা/এনএস /এসআর

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা