ঘূর্ণিঝড় গ্যাব্রিয়েল
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:১৭ পিএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৪৩ পিএম
ঘূর্ণিঝড় গ্যাব্রিয়েলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় নিউজিল্যান্ডের উত্তর-পূর্বে নেপিয়ারে ব্রিজ এবং ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। ছবি : বিবিসি
নিউজিল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় গ্যাব্রিয়েল আঘাত হানার পর সেখানকার বাসিন্দাদের বন্যায় প্লাবিত ঘরবাড়ি থেকে সাঁতার কেটে নিরাপদ স্থানে বের হয়ে আসতে বাধ্য করা হয়েছে।
গ্যাব্রিয়েলের ধ্বংসযজ্ঞের পরে দেশটি মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে দেশটির ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলো।
ঝড়টি উত্তর দ্বীপজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। শহরতলিতে সৃষ্ট বন্যা ভাসিয়ে নিয়েছে রাস্তা এবং সেতু। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার অন্তত ২ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন ছিল। নিউজিল্যান্ডের ৫ দশমিক ১ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ওই ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে বাস করে।
ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দেশটির উত্তর এবং পূর্বের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে হকস বে, কোরোম্যান্ডেল এবং নর্থল্যান্ডের মতো শহর রয়েছে।
স্থানীয় মার্সেল স্মিথ বিবিসিকে বলেন, তিনি গত সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে উঁচু স্থানে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা আমাদের জীবনকে রক্ষার জন্য সবকিছু করার চেষ্টা করছি। এই মুহূর্তে এটি মানুষ বনাম প্রকৃতির লড়াই।’
স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে যে, হকস বে’র কিছু বাসিন্দাকে ঘর প্লাবিত হওয়ার কারণে পালাতে বেডরুমের জানালা দিয়ে সাঁতার কেটে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়েছিল। ওই এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে যে, তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎবিহীন থাকতে পারেন।
বন্যাকবলিত অঞ্চলের ছবিগুলোতে ছাদে আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
বিশাল মাত্রার ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে উপড়েপড়া গাছ, রাস্তার বাঁকানো বিদ্যুতের খুঁটি এবং এবং সারি সারি প্লাবিত ঘরবাড়ি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অকল্যান্ডের পশ্চিমে মুরিওয়াইতে একটি ভূমিধসে দুই ফায়ার সার্ভিসকর্মী আটকা পড়েছেন। তাদের একজন গুরুতর আহত এবং অন্য একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা।
সূত্র : বিবিসি