তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্প
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:৪৫ এএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৫৩ এএম
তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্প আঘাত হানার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে দেশ দুটিতে। অলৌকিকভাবে দু-একজনকে এখনো জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
তবে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষ ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন নিখোঁজদের স্বজনরা।
তুরস্কের আঁতক্যায় ভূমিকম্পের পর অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েন এরদেম আভসারোগ্লুর বোন, তার স্বামী ও তাদের দুই শিশুসন্তান। ভূমিকম্পের পর তারা জীবিত ছিলেন এবং উদ্ধারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন। কিন্তু দেড় দিন পরই মঙ্গলবার পরিস্থিতি বদলে যায়।
ধ্বংসস্তূপের ভেতর সম্ভবত জেনারেটর থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আভসারোগ্লু পেশায় একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী। সেই রাতে তিনি হতাশ হয়ে দেখছিলেন আগুন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলেছিল।
আগুন লাগার পর ধ্বংসাবশেষ থেকে আর কোনো শব্দ আসেনি।
প্রায় পাঁচ দিন পর রবিবার ভবনের অবশিষ্টাংশ থেকে তাপ নির্গত হতে দেখা গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপটি সরিয়ে ফেলার জন্য পরিশ্রম করেছিলেন।
আভসারোগ্লু তার পরিবারের লোকজনের বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভূমিকম্পের আজ সপ্তম দিন, সবাই ক্লান্ত। আমরা শুধু এক টুকরো লাশ খুঁজে পেতে চাই। কিন্তু আমরা কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না, সম্ভবত তারা সব পুড়ে গেছে।
ওই অ্যাপার্টমেন্টে প্রায় ৮০ জন লোক বাস করতেন। ২১ জনকে আগুন লাগার আগে উদ্ধার করা হয়েছিল এবং ১২ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। বাকি ৪৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো দেখে কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। ‘কোনো কোনো পরিবার কেবল আগুনে পোড়া স্বজনদের হাড় সংগ্রহ করতে পেরেছে’ বলেন তিনি।
ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হাজার হাজার মানুষ। সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুই দেশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
তুরস্কের জরুরি সমন্বয় কেন্দ্র এসএকেওএম জানিয়েছে, তুরস্কের ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোয় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ হাজার ৬৪৩ জন হয়েছে।
প্রতিবেশী সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা