প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২২ ২২:৫৭ পিএম
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে হাজার ছাড়ালো মৃতের সংখ্যা
আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। বিগত দুই দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে তালেবান প্রশাসন। খবর বিবিসির।
স্থানীয় সময় বুধবার (২২ জুন) ভোরে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
পাকতিকা প্রদেশের তথ্যপ্রধান মোহাম্মদ আমিন হাজিফি বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা এখনো উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছেন বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া তালেবানের শীর্ষ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদা বলেছেন, শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ খোস্তের রাজধানী শহর খোস্ত থেকে আনুমানিক ৪৪ কিলোমিটার দূরে। ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র জানায়, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে ভূকম্পন অনুভূত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্প আফগানিস্তানের অবস্থা বেশ ভঙ্গুর হয়ে গেছে এর অন্যতম কারণ হলো দুর্ঘটনাকবলিত প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো সাহায্যকারী দল পৌঁছাতে পারছে না।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন স্থানীয় কৃষক জানান, দেশটির ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত প্রত্যন্ত অঞ্চল জ্ঞান গ্রামে সরকারী উদ্ধারকারী দল এখনও পৌঁছাতে পারেনি। তবে প্রতিবেশী শহর ও গ্রাম থেকে লোকজন সেখানে উদ্ধার করতে ছুটে এসেছে। দুর্ঘটনার পর আজ সকালে তিনি নিজেও পৌঁছে উদ্ধার কাজে হাত লাগান এবং একা ৪০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, উদ্ধারকৃতদের বেশিরভাগই অল্পবয়সী এবং ছোট শিশু। এই এলাকায় একটি হাসপাতাল থাকলেও তা এই বিপর্যয় মোকাবিলা করার সামর্থ্য নেই।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যানুযায়ী আজ ভোররাতে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১ ও এর গভীরতা ছিল ৫১ কিলোমিটার।
২০০২ সালের পর আফগানিস্তানে এটাই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। ওই বছর ২৫ মার্চ ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।