প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০১:০০ এএম
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:২৩ পিএম
তুরস্কে চলছে জোর উদ্ধার তৎপরতা। ছবি : সংগৃহীত
তুরস্কে ৬ ফেব্রুয়ারি ৭.৮ মাত্রার বিপর্যয়কর ভূমিকম্পের পর আরও শতাধিক ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৪ মাত্রার চেয়ে বেশি তীব্রতার এসব ভূকম্পন মূলত পরাঘাত (আফটার শক)। এসব পরাঘাতের কারণে উদ্ধারকাজ যেমন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমননি প্রাণহানিও বেড়েছে। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বড় ভূকিম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ছোট ছোট ভূকম্পন অনুভূত হয়ে থাকে। তবে তুরস্কে কোনো কোনো পরাঘাতের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৭ পর্যন্ত ছিল।
এসব পরাঘাত ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে মরার ওপর খাড়ার ঘায়ের মতো বিপন্ন মানুষের জন্য আঘাত হয়ে এসেছে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া মানুষের বাঁচার আকুতি সেই আঘাতে হয়তো নীরবেই নিঃশেষ হয়ে গেছে।
৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্প তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অবকাঠামো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। বিস্তীর্ণ এ অঞ্চলে শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত শতাধিক পরাঘাত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৭ মাত্রার দুটি, ৬ মাত্রার তিনটি, ৫ মাত্রার ২০টি এবং ৪ বা অধিক মাত্রার ৮১টি পরাঘাতে বারবার কেঁপে উঠেছে উপদ্রুত অঞ্চলের মানুষ।
শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৬৫-এ। এর মধ্যে তুরস্কে ১৯ হাজার ৩৮৮ ও সিরিয়ায় ৩ হাজার ৩৭৭ জন মারা গেছেন।
যাবতীয় বৈরী পরিবেশ উপেক্ষা করে ভূমিকম্পবিধ্বস্ত তুরস্ক ও সিরিয়ায় উদ্ধারকাজ এগিয়ে চলেছে। ভূমিকম্পের পঞ্চম দিনেও ধ্বংসস্তূপ থেকে একাধিক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রায় ১০১ ঘণ্টা পর তুরস্কে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একই পরিবারের ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির হাতায় প্রদেশের ইস্কেন্দেরুন শহরে শুক্রবার এ অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে।
উদ্ধারকর্মী মুরাদ বেগুল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘একটি বিধ্বংস ভবনের নিচে ছোট খুপরিতে তারা জড়াজড়ি করে ছিলেন। তারা একই পরিবারের সদস্য। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’