প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:২৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিটন ডিসিতে অবস্থিত আইএমএফের সদরদপ্তর।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক বিপত্তির মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান। আর্থিক বিপত্তি কাটাতে একের পর এক চেষ্টা চালিয়েও কোনো লাভের মুখ দেখেনি শাহবাজ সরকার।
পাকিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বেলআউট প্রকাশের বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা থমকে গেছে। আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে পৌঁছয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল আইএমএফের প্রতিনিধিদলের ওই সফরের শেষ দিন। আইএমএফের দেওয়া কঠিন শর্তগুলোকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ‘কল্পনার বাইরে’ বলে মন্তব্য করেছেন।
রাজধানী ইসলামাবাদে বিশ্বব্যাংকের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনৈতিক বিশ্লেষক আবিদ হাসান বলেছেন, ‘আইএমএফ স্পষ্টতই সরকার যা করতে ইচ্ছুক তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু চাইছে। উভয়পক্ষই অপরের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।’ গতকাল অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার সাংবাদিকদের বলেন, একটি চূড়ান্ত আলোচনা চলছে।
আইএমএফ করের হার বাড়াতে বলছে। রপ্তানি খাতের জন্য কর ছাড়ের অবসান ঘটাতে এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে কম দামে দেওয়া পেট্রোল, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাম বাড়াতে বলেছে।
পাশাপাশি আইএমএফ পাকিস্তানের মিত্রদেশ সৌদি আরব, চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে আরও সহায়তার নিশ্চয়তার মাধ্যমে ব্যাংকে টেকসই পরিমাণ মার্কিন ডলার রাখার জন্য পাকিস্তানকে চাপ দিচ্ছে।
তবে এর আগে গত বুধবার আলোচনা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করে পাকিস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী খুররম দস্তগীর খান স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো অচলাবস্থা নেই। গত ১০ দিনে বিস্তারিত ও জোরালো আলোচনা হয়েছে।
আর্থিক সংকট থেকে বের হতে আইএমএফের দ্বারস্থ হওয়া পাকিস্তান সংস্থাটির শর্ত ঘিরে ইতোমধ্যেই বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। এদিকে জটিলতা তৈরি হয়েছে মেমোরেন্ডাম অব ইকোনমিক অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল পলিসিস (এমইএফপি) নিয়ে। পাকিস্তানের এক সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এখনও পর্যন্ত আমরা এমইএফপির খসড়া পাইনি।’
এখনও পর্যন্ত বহিরাগত ফান্ড ও আর্থিক পরিমাপ নিয়ে পাকিস্তানের সামনে যে নথি পেশ করা হয়েছে, তাতে খুব একটা সায় আসেনি আইএমএফ থেকে। ফলে কোন পদ্ধতিতে পাকিস্তানের আর্থিক সংকট মোকাবিলা করা যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এর আগে ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দেশটি ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক প্যাকেজে প্রবেশ করেছিল আইএমএফের আর্থিক সাহায্যের হাত ধরে। সেই ঘটনা ২০১৯ সালের।
এদিকে, ২০১৯ সালে যে আর্থিক প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে, তা গত বছর ৭ বিলিয়নে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের আর্থিক সংকট কার্যত আরও ঘনীভূত হয়।
বছরের পর বছর ধরে আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং ধ্বংসাত্মক বন্যার কারণে ক্ষতি আরও বেড়েছে। গত বছর ওই বন্যায় দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ডুবে যায়।
দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সম্প্রতি ইসলামাবাদ আইএমএফের শর্তগুলোর কাছে নত হতে শুরু করে। শেষ মুহূর্তে আইএমএফের দলটি পাকিস্তান সফরে যায়।
কালোবাজারে মার্কিন ডলারের দরে লাগাম টানতে সরকার রুপির ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছে। এ পদক্ষেপের ফলে রুপির দাম রেকর্ড পরিমাণে কমে গেচে। দেশটির পেট্রোলের দাম ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, আইএমএফ পেট্রোলিয়াম ও জ্বালানির বর্তমান দামে সন্তুষ্ট নয়।
এদিকে জ্বালানির আরও দাম বাড়ার ভয়ে দেশটির বৃহত্তম প্রদেশ পাঞ্জাবের পেট্রোল মজুদ করতে দেখা গেছে।