প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৯:১৪ এএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:৪৮ এএম
হাজার হাজার পরিবারকে খোলা জায়গায় নিজেদের গাড়ি ও অস্থায়ী তাঁবুতে রাত কাটাতে হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্কে ও সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ হাজার ৩৯১ জন তুরস্কে, আর সিরিয়ায় ২ হাজার ৯৯২ জন বলে দেশ দুটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আলজাজিরা।
এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে তুরস্কের ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত শহর গাজিয়ানতেপের তাপমাত্রা মাইনাস ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (২৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট) নেমে আসে।
এই তীব্র শীতের মধ্যে হাজার হাজার পরিবারকে খোলা জায়গায় নিজেদের গাড়ি ও অস্থায়ী তাঁবুতে রাত কাটাতে হয়েছে।
অনেকে আবার কম্বল নিয়ে থেকেছেন রাস্তায়। অনেকের বাড়িঘর ঠিক থাকলেও, তারা ভয় পাচ্ছেন নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে। মুছে ফেলতে পারছেন না ভূমিকম্পের দুঃসহ স্মৃতি।
অনেকের স্বজনই এখনও নিখোঁজ। ফলে পুরোটা সময় তাদের কাটছে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায়।
উদ্ধারকর্মীরাও কোনো বিরতি ছাড়াই তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে উত্তর সিরিয়ায়। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া লোকজন তাদের উদ্ধারে সাহায্যের জন্য ডাকাডাকি করছেন। কিন্তু তাদের ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো কেউ নেই বললেই চলে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তুরস্কের কাহরামানমারাস এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারানো কিশোরী মেয়ের হাত ধরে বসে আছেন হতবিহ্বল বাবা। সিরিয়ার জিন্দারিসে শিশুসন্তানের নিথর দেহ আঁকড়ে কাঁদছেন আরেক বাবা।
আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, এগুলো এ রকম হাজারো পরিস্থিতির কয়েকটি মাত্র। দুটি দেশেই হাজার হাজার ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের বাঁচাতে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
গত সোমবার ভোরে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প তুরস্ক ও সীমান্তবর্তী সিরিয়ায় আঘাত হানে। প্রায় ১১ মাইল গভীর তুরস্কের গাজিয়ানতেপ প্রদেশে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি। ছোট ছোট প্রায় ৭৮টি ভূমিকম্পের পর সোমবার বিকালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে একই স্থানে। সোমবারের ভূমিকম্পে শুধু তুরস্কে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। ১৯৯৯ সালের পর তুরস্কে এটিই ভয়াবহতম ভূমিকম্প।