প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৮:৫৯ এএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:৪৩ এএম
ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। ছবি: বিবিসি
শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি। ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। তারা বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা রয়েছে।
হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা, তুষার ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ইউনিসেফ বলছে, নিহতদের মধ্যে শিশুই রয়েছে কয়েক হাজার।
তুরস্কের ১০টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
তুরস্ক ও সিরিয়াজুড়ে চাপা পড়া ব্যক্তিদের খুঁজতে ও উদ্ধার করতে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী, দমকলকর্মী, চিকিৎসাকর্মী, সামরিক ও বেসামরিক লোকজন আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বলেছেন, ‘আমরা এখন সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়াচ্ছি। প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে আর জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে আসছে।’
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর সিরিয়ার বেশিরভাগ অংশজুড়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। বেশ কয়েক হাজার উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। সেই সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দিতে বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকর্মী পাঠানোর কথা ঘোষণা দিয়েছে।
তুরস্কের দক্ষিণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ, তুষারপাত, বৃষ্টি, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, রাস্তায় গৃহহীন লক্ষাধিক লোকের অবস্থান- এসব কারণে উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত উত্তর সিরিয়ার স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকর্মীরা বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা লোকদের টেনে তোলার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং অন্য জিনিসপত্রের অভাব রয়েছে। অসংখ্য লোক আটকা পড়ে আছে এবং জীবিতদের খুঁজে বের করতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।
কাহরামানমারাসের গাজিয়ানতেপ ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। এখানকার ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া মানুষদের খুঁজতে কংক্রিটের ভগ্নাংশ ও বিভিন্ন আসবাবপত্র হাত দিয়েই সরাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন এসব মানুষকে জীবিত বের করে আনতে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ‘কেউ আছেন? শুনতে পাচ্ছেন?’ এমন অনেকের আর্তনাদ ভেসে আসছিল। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে।
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাতায়ে প্রদেশের রাজধানী আনতাকিয়া শহর। সিরীয় সীমান্তের কাছে এই শহরটিতে উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে সারা রাত ও গতকাল সকাল পর্যন্ত চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। অনেকে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে তীব্র শীতের মধ্যে অপেক্ষা করেছিলেন, তাদের বন্ধু বা স্বজনকে জীবিত পাওয়া যাবে এই আশায়।
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
গতকাল তুরস্ক ও সিরিয়ায় ধসে পড়া ভবনগুলো পরিদর্শনে যান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাডেলহেইড মার্শাং। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সূত্র: বিবিসি