প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০১:৫৮ এএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০২:৩২ এএম
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাতায় প্রদেশে ভূমিকম্পে ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসাবশেষে চাপা গুল ইনান নামে ৪ বছর বয়সি মেয়েটিকে উদ্ধার করার পর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
তুরস্কে ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে চার বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার ৩৩ ঘণ্টার পর উদ্ধারকারীরা তাকে প্রাণে বাঁচাতে সক্ষম হন। মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় শতাব্দীর ভয়াবহ মানবিক মহাবিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশ দুটিতে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বিপর্যস্ত তুরস্ক ও সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে বহু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাতায় প্রদেশে ভূমিকম্পে মুড়িমুড়কির মতো ধসে পড়া একটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছিল গুল ইনান নামে ৪ বছর বয়সি মেয়েটি। তার অবস্থান শনাক্ত করার পর রুদ্ধশ্বাস প্রচেষ্টা চালিয়ে শেষপর্যন্ত তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গুল ইনানকে ধ্বংসাবশেষ থেকে তুলে আনার সময় তার স্বজনদের চোখে আনন্দাশ্রু ঝরছে।
গত সোমবার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় আহত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছে কয়েক হাজার। তারা বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছেন। তাদের কেউ কেউ মোবাইলে ভিডিও বার্তা, ভয়েস মেইল পাঠিয়ে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা, তুষার ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ইউনিসেফ বলছে, নিহতদের মধ্যে শিশুই রয়েছে কয়েক হাজার। তুরস্কের ১০টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
তুরস্ক ও সিরিয়াজুড়ে চাপা পড়া ব্যক্তিদের খুঁজতে ও উদ্ধার করতে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী, দমকলকর্মী, চিকিৎসাকর্মী, সামরিক ও বেসামরিক লোকজন আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বলেছেন, ‘আমরা এখন সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়াচ্ছি। প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে আর জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে আসছে।’ তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর সিরিয়ার বেশিরভাগ অংশজুড়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। বেশ কয়েক হাজার উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। সেই সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দিতে বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকর্মী পাঠানোর কথা ঘোষণা দিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা