প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:৩০ পিএম
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:৩৭ পিএম
ভারত সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বৃহত্তম হেলিকপ্টার কারখানা চালু করেছে, যেখান থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে এক হাজার হেলিকপ্টার তৈরি করা যাবে।
চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা ও প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার অংশ হিসেবে ভারত ওই কারখানাটি চালু করল। এ ছাড়াও নয়াদিল্লি গত সপ্তাহে তার বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি সামরিক সরঞ্জাম স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ওপর জোর দিয়েছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তারা এ নির্ভরতা কমাতে চায়। মস্কো ভারতের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী।
ওই হেলিকপ্টার কারখানার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো। আমাদের নতুন এই হেলিকপ্টার তৈরির কারখানা সরকারের সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি খুশি যে, শত শত বিভিন্ন অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রাইফেল থেকে ট্যাংক, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, হেলিকপ্টার এবং পরিবহন বিমান এখন ভারতে তৈরি হচ্ছে।’
এটিকে এশিয়ার সর্ববৃহৎ হেলিকপ্টার তৈরির কারখানা হিসেবে বলা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই কারখানায় ভারতের নকশায় উন্নত ‘লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার’ তৈরি করবে এবং তারপরে অন্যান্য নানা কাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার তৈরি করবে।
কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে। নয়াদিল্লিতে মাত্র কয়েক মাস আগে স্থানীয়ভাবে তৈরি ‘অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ উদ্বোধন করা হয়। হিমালয়সংলগ্ন উঁচু এলাকাগুলোতে ব্যবহারের জন্য ওই হেলিকপ্টারটির নকশা করা হয়।
ভারত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম স্থানীয়ভাবে তৈরি বিমানবাহী রণতরি উদ্বোধন করে। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোকাবিলা প্রচেষ্টায় এটি ছিল একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি বিশ্বের ছয়টি দেশের মধ্যে একটি যাদের স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ থেকে পারমাণবিক হামলা করার সক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া ভারত দেশীয় তৈরি পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও করেছে।