প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:২৬ পিএম
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:০০ পিএম
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের অনুসন্ধানে ব্যস্ত। ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের দিয়ারবাকিরে শহর থেকে তোলা। ছবি : সংগৃহীত
প্রথম ভূমিকম্পের ৯ ঘণ্টার মাথায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তুরস্কে। সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৪ মিনিটের দিকে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এটি আঘাত হানে। এতে নতুন করে আরও কিছু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তের গাজিয়ানতেপ প্রদেশের কাহরামানমারাস শহরে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানার আগে অন্তত ৭৮টি ছোট ছোট কম্পন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে। প্রথম ভূমিকম্পটি সিরিয়ার বাইরের লেবানন, ইসরায়েল ও সাইপ্রাসেও অনুভূত হয়েছে।
তুরস্ক ও সিরিয়ায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত উদ্ধার করা হয়েছে আরও কয়েক হাজার। নিহত ও আহতের সংখ্যা মিনিটে মিনিটে বাড়ছে।
তুরস্কে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প
তুরস্ক ও সিরিয়ার ওই অঞ্চলে প্রথম ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছিল প্রায় ১৪১ বছর আগে। ১৮৮২ সালের ১৩ আগস্টের ওই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বর্তমান সিরিয়ার আলেপ্পো শহর। তখন শহরটিতে প্রায় ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে সরকারি বিভিন্ন নথিপত্রে। আহত হয়েছিল নিহতের প্রায় দ্বিগুণ।
সোমবারের আগে ৮৪ বছর আগে একই মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল তুরস্কের এরজিনকা প্রদেশে। ১৯৩৯ সালের সেই ভূমিকম্পে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। নিহতের দিক থেকে তুরস্কের ইতিহাসে এটিই ভয়াবহতম ভূমিকম্প।
১৯৯৯ সালের ১৭ আগস্ট ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল ইজমিট প্রদেশে। এতে নিহত হয়েছিল ১৭ হাজারের বেশি। আহত হয়েছিল ৫০ হাজারের বেশি। সার্বিক বিচারে তুরস্ক ও অঞ্চলটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটি ভয়াবহতম ভূমিকম্প।
২০১১ সালের ২৩ অক্টোবর ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে ভ্যান শহরের পূর্বাঞ্চলে। এতে ৬ শতাধিক মানুষ নিহত হয়।
২০২০ সালের ২৪ জানুয়ারি ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে ইলসিগ শহরে। এতে ৪১ জন নিহত ও দেড় হাজারের বেশি আহত হয়।
সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি, আনাদোলু।