× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিউনিসিয়ায় আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৩৩ এএম

২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ার বিক্ষোভকারীরা দেশটির বিরোধী দল ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট জোটের ডাকা প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের বিরুদ্ধে একটি সমাবেশে অংশ নেয়। ছবি : সংগৃহীত

২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ার বিক্ষোভকারীরা দেশটির বিরোধী দল ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট জোটের ডাকা প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের বিরুদ্ধে একটি সমাবেশে অংশ নেয়। ছবি : সংগৃহীত

তিউনিসিয়ার প্রায় সবাই একটি বিষয়ে একমত সেটি হলো, দুর্বল অর্থনীতিই তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। বিপ্লবের ১২ বছর পরেও দেশটিতে চলছে ব্যাপক অর্থনৈতিক অসন্তোষ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দ্বারা নির্ধারিত কঠোর শর্ত অন্ধভাবে মেনে চলার কারণে দেশটিতে একটি স্থিতিস্থাপক এবং প্রগতিশীল গণতন্ত্র গড়ে তোলাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক অসন্তোষের কারণে ২০১১ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় আসা শাসকদের কেউই দেশটির দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক দুর্দশা মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হননি। ফলে সেই অর্থনৈতিক সংকট চিরস্থায়ী হয়ে গেছে, যা থেকে দেখা দিয়েছে গণতন্ত্রের সংকট। সাম্প্রতিক মতামত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার প্রতি তিউনিসিয়ার জনগণের বিশ্বাস এবং সমর্থনকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল।

অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দেশটির অনেক নাগরিক মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো গোষ্ঠী এমন নীতি প্রণয়ন করতে সক্ষম নয়, যা দেশের মূল অর্থনৈতিক সংগ্রামের সমাধান করবে। এই অবিশ্বাস গড়ে উঠেছে মূলত উন্নয়নবিমুখ প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদের কারণে। তিউনিসিয়ার জনগণ তাকে ত্রাণকর্তা হিসেবে ভেবে কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম দিকে নির্বাচিত করেছিল।

সাইয়েদ ২০১৯ সালের অক্টোবরে দুর্নীতির অবসান, আইনের শাসনকে শক্তিশালী করা, ভুলের জন্য জবাবদিহি করা এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

পরিবর্তন করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সাইয়েদ ভয়ানক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ঠিক করার জন্য কোনো অর্থবহ পদক্ষেপেই নেননি। উল্টো দেশের অনেক গভীর-মূল সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করার পরিবর্তে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিরোধীদের ওপর দমনমূলক ও সহিংস পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিরোধী রাজনীতিবিদদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক পোস্টের জন্য মানবাধিকার কর্মীদের কারাগারে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন।

দেশ সচল রাখতে আইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়ার বিকল্পপন্থা খুঁজতে ব্যর্থ হন। বেন আলী যুগের ভুলের পুনরাবৃত্তি করে সাইয়েদ আইএমএফের ‘গুড বুকে’ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে। ১০৯ কোটি ডলারের ঋণ এবং ২০২৩ সালের বাজেটের অর্থায়নের জন্য আইএমএফের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানোর পর সাইয়েদের সরকার এখন চুক্তিটি পাকা করার পূর্বশর্ত হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করছে। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী সম্ভবত খাদ্য ও জ্বালানি ভর্তুকি সম্পূর্ণ বর্জন, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় কমানো এবং প্রধান সরকারি কোম্পানিগুলো বেসরকারীকরণ করা হবে।

যদিও এসব নীতি অবশ্যই তিউনিসিয়ার অর্থনীতিকে উদ্ধার করতে এবং জনগণের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে সক্ষম হবে না। সর্বোপরি আইএমএফের বিশেষজ্ঞরাও স্বীকার করেন, তাদের দেওয়া কঠোর শর্তগুলো প্রায়শই জনগণের উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এই নীতি বৈষম্য বাড়ায় এবং দারিদ্র্যকে আরও গভীর করে। অর্থনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করে বেকারত্ব বাড়ায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত করে সামাজিক বিস্ফোরণের জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করে।

দেশটির জনগণ ১৯৮৪ সালে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী রুটি ভর্তুকি বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিল। এটি ছিল রাজনৈতিক সংকটের একটি প্রাথমিক চিহ্ন। ১৯৮৭ সালে জাইন এল আবিদিন বেন আলীর নেতৃত্বে দেশটিতে অভ্যুত্থান ঘটে। একইভাবে ২০০৮ সালে গাফসা খনির অববাহিকায় বিদ্রোহ হয়। যা তিউনিসিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিদ্রোহগুলোর মধ্যে একটি হয়ে ওঠে, যা ২০১১ সালের বিদ্রোহকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ওই সময়ে আইএমএফের কুখ্যাত কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচির সঙ্গে বেন আলি সরকার সহমত পোষণ করেছিল। এটি ছিল বিদ্রোহের একটি বড় কারণ।

ইতিহাস বলছে, আইএমএফের নির্দেশিত কঠোর নীতি গ্রহণ সাইয়েদের কর্তৃত্ববাদী এবং অগণতান্ত্রিক শাসনের মৃত্যুঘণ্টা শোনাবে। প্রচুর প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সাইয়েদ সামাজিক বিস্ফোরণের বিষয়ে সতর্ক নন বলে মনে হচ্ছে। এক্ষেত্রে বলা যায়, সাইয়েদের জন্য একটি বিস্ফোরণ অপেক্ষা করছে, যা নিঃসন্দেহে তার একনায়কত্বের পতন ঘটাবে।

জাতির অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে সাইয়েদের শাসনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে এবং আইএমএফের বিপজ্জনক দাবি মেনে চলার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে তিউনিসিয়ানরা আবারও তাদের গণতন্ত্র বাঁচানোর চেষ্টা করবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিউনিসিয়ায় আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র : আলজাজিরা

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা