শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা দিবস
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:১৭ এএম
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:৪৭ পিএম
স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে মহড়ায় দেশটির সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে শনিবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির অনেকের কাছে এটি প্রয়োজনীয় মনে হলেও, অনেকে এই বিপুল অর্থ ‘অপব্যয়ে’ হতাশা প্রকাশ করেছেন। এর জেরে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদও করতে দেখা গেছে মানুষকে।
১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হয় দেশটি। জানা গেছে, দিবসটি উদযাপনে রাজধানী কলম্বোর গ্যালে ফেসে মঞ্চ সাজানো হয়েছিল। গত বছর ওই স্থানেই হয়েছিল কয়েক মাসব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ।
নতুন সরকার আসার পর এটাই প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন শ্রীলঙ্কার। এর আগে গণবিক্ষোভের মুখে গত বছরের জুলাইয়ে দেশ ছেড়ে পালান শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। পরে ক্ষমতা নেন রনিল বিক্রমাসিংহে।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বলেন, শনিবারের উদযাপন ‘অত্যন্ত জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং সময়ে’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের জন্য রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের শক্তি ও অর্জন খতিয়ে দেখার একটি সুযোগ। নিজেদের ভুল ও ব্যর্থতা সংশোধনেরও একটি পথ।’
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সামরিক প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনের পেছনে সরকারি তহবিল থেকে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার।
এরই মধ্যে এ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার থেকেই আরাগালয়া আন্দোলনের নেতাকর্মীরা কলম্বোতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আরাগালয়া আন্দোলনের কর্মী মেলানি গুনাতিলাকা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার মানুষ মৌলিক চাহিদাই পূরণ করতে পারছে না। এরকম পরিস্থিতিতে সরকারি তহবিলের এই ব্যাপক অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তুলে ধরতেই আমরা সত্যাগ্রহ আন্দোলন করছি।’
শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে একমত। চিকিৎসকদের সংগঠন জেনারেল মেডিকেল অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের (জিএমওএ) মুখপাত্র চামিল বিজেসিংঘে বলেছেন, ‘দেশজুড়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে সব হাসপাতালেই এখন ওষুধের সংকট। প্রায় ১৪০টি ওষুধের মজুদ শেষ। বেশির ভাগ ওষুধেরই সরবরাহ কম। ওষুধের ঘাটতির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। জিএমওএ কর্তৃপক্ষকে মনে করিয়ে দিতে চাই, সীমিত সরকারি তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে আরও অনেক অগ্রাধিকার রয়েছে।’
তবে দ্বিমতও পোষণ করেছে অনেকে। এরকমই একজন শ্রীলঙ্কার স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মালিন্দা সেনেভিরত্নে। তার মতে, একটি রাষ্ট্রকে নানাভাবে তার মর্যাদা নিশ্চিত করতে হয়। আর এটি করার একটি উপায় হলো স্বাধীনতা দিবস বা জাতীয় ছুটি উদযাপন।
শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ২০২২ সালে ১১ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হয়েছে। শুক্রবার জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, প্রতি তিনজনে একজন শ্রীলঙ্কানের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
এ ছাড়াও গত ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার ৩৬ শতাংশ পরিবারে খাদ্যের নিরাপত্তা নেই।
জানা গেছে, তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানিঘাটতির কারণে দেশের অনেক এলাকায় এখনও দিনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাঙ্গা কালানসুরিয়া বলেছেন, শ্রীলঙ্কা একটি দেউলিয়া রাষ্ট্র। ফলে আমাদেরকে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হবে।’
সূত্র : ডয়চে ভেলে, এএফপি