প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২২ ১৭:০৩ পিএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২২ ১৭:৫০ পিএম
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হওয়া ভারতের আলোচিত পেগাসাস তদন্তে কোনো সহযোগিতা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তদন্ত কমিটির পেশ করা প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, তারা ২৯টি ফোন পরীক্ষা করেছে। এর পাঁচটিতে ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো আড়ি পাতার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা এখনও নিশ্চিত না বলে জানিয়েছে প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা নিজেই তদন্ত কমিটির এই পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন।
২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসওর তৈরি পেগাসাস প্রযুক্তির অপব্যবহার–সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর ভি রবীন্দ্রনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে ছিলেন আরও তিনজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। প্রায় ১০ মাস পর আজ তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেন কমিটি। সেই রিপোর্টে পেগাসাস তদন্তে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যক্তি-গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে পেগাসাস তদন্ত কমিটির রিপোর্টের অনেক তথ্য সামনে আনা যাবে না বলেও জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা বলেন, ‘পেগাসাস রিপোর্টের বেশ কিছু অংশ গোপণীয়। তাতে ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। তাই টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্টের বেশ কিছু অংশ পাবলিকলি প্রকাশ করা যাবে না বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।’
আগামীকাল শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হতে পারে।
সন্ত্রাসবাদ দমনে ইসরায়েলি সংস্থা এনএসও পেগাসাস স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি তৈরি করেছিল। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বের বহু দেশের সরকার ওই প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। ভারতও তাদের মধ্যে অন্যতম বলে জানান হয়।
এ সময় অভিযোগ ওঠে, পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সমাজকর্মীদের ফোনে আড়ি পেতেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরের সময় পেগাসাস প্রযুক্তির জন্য দুই বিলিয়ন ডলারের চুক্তিও করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কোনো জবাব দেয়নি মোদি সরকার।
বিষয়টি নিয়ে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। তারপরই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন শীর্ষ আদালত।
প্রবা/এনএস/এমআই