× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভূতাপীয় শক্তি ব্যবহারে নতুন প্রযুক্তি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ১০:৩৭ এএম

ইনফোগ্রাফ।

ইনফোগ্রাফ।


পায়ের নিচে জমা আছে সীমাহীন ভূতাপীয় শক্তি (জিওথার্মাল এনার্জি)

১৫ বছর আগেও ভূগর্ভের অতটা গভীরে খনন করে এই শক্তি ব্যবহার সম্ভব ছিল না 

ভূগর্ভের ওই তাপশক্তি ব্যবহার জন্য খনন করা হচ্ছে তেল ও গ্যাস শিল্পের আধুনিক খননপ্রযুক্তি

নতুন এ প্রযুক্তি বর্তমানে এনহান্সড জিওথার্মাল সিস্টেম বা ইএসজি নামে পরিচিত



যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে ১৮ হাজার ফুট গভীর এক কুয়া খুঁড়েছে কানাডার প্রতিষ্ঠান ইয়াভর ইনকরপোরেটেড। ভূগর্ভের গভীরে থাকা ভূতাপীয় শক্তি (জিওথার্মাল এনার্জি) পর্যন্ত তাদের পৌঁছানোর সক্ষমতা রয়েছে, সেটাই এর মধ্য দিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে নিউ মেক্সিকোতে কোনো প্রতিষ্ঠান ভূগর্ভের এত গভীর পর্যন্ত যেতে পারেনি। ইয়াভর এ ক্ষেত্রে সফল। তারা এই কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মোটাদাগে নিজ প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যালবাকারকি জার্নাল বলছে, এভাবে মাটির গভীর থেকে সীমাহীন নবায়নযোগ্য শক্তি সংগ্রহ সম্ভব। 

ভূ-তাপীয় শক্তি এক ধরনের নবায়নযোগ্য শক্তি, যা পৃথিবীর ভূত্বকের ভেতরের কোরে (ম্যান্টেল) সঞ্চিত রয়েছে। ইয়াভরের ব্যবসায়িক উন্নয়ন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল ইথিয়ের বলেছেন, ‘আমাদের পায়ের নিচে প্রচুর পরিমাণে ভূতাপীয় শক্তি জমা আছে। আমাদের প্রযুক্তি যে ভূতাপীয় শক্তির সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে, সেটাই দক্ষিণ-পশ্চিম নিউ মেক্সিকোতে শেষ হওয়া আমাদের খনন প্রকল্পের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে। এখন এ প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।’

অ্যালবাকারকি জার্নালের প্রতিবেদন বলছে, প্রথমে ২০ মেগাওয়াট ভূতাপীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের (জিওথার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট) জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় খননকাজ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়াভর। এ প্রকল্পের অধীনে স্থানীয় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানন এনভি এনার্জিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এখনও অবশ্য নেভাদার নিয়ন্ত্রকদের অনুমতি পায়নি তারা। 

শুধু ইয়াভর নয়, আরও অনেক প্রতিষ্ঠান এখন মরিয়া হয়ে ভূতাপীয় শক্তিকে ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে ব্যবহার করছে আধুনিক খননপ্রযুক্তি। মূলত তেল ও গ্যাস শিল্পের আধুনিক খননপ্রযুক্তিই বর্তমানে ভূগর্ভের ভূতাপীয় শক্তি পর্যন্ত যাওয়ার পথ তৈরি করে দিচ্ছে।

উদাহরণস্বরুপ টেক্সাস ভিত্তিক ফারভো টেকনোলজিস আধুনিক ভূতাপীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তি করেছে। ক্যালিফোর্নিয়াতে তারা তিনটি পৃথক প্রকল্প হাতে নিয়েছে যেখানে তাদের ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ফারভোর লক্ষ্য নিউ মেক্সিকোসহ আরও অনেক জায়গায় এ ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়া।

ইথিয়ের বলেন, ‘আমরা আমাদের তেল ও গ্যাসের খননপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি এখানে। পার্থক্যটা হলো, এ ক্ষেত্রে আমরা হাইড্রোকার্বনের বদলে তাপ শক্তি পাওয়ার জন্য খননকাজ করছি। ১৫ বছর আগেও আমাদের এ সক্ষমতা ছিল না।’ 

তেল ও গ্যাস উত্তোলনের অনেক পদ্ধতিই এখন ভূতাপীয় শক্তি সংগ্রহে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কাজে লাগানো হচ্ছে উন্নত সিসমিক সেন্সর প্রযুক্তি এবং ডেটা বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া। যা এতদিন মূলত তেল ও গ্যাসের আধার খুঁজে পেতে ব্যবহার করা হতো। 

ভূতাপীয় শক্তি আহরণের পরীক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে তেল ও গ্যাস শিল্পের শ্রমিকদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে। যেমন, গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর মেয়াদে চলা এক প্রকল্পে দুটি খননযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই খননযন্ত্র ছিল তেল ও গ্যাস শিল্পের। ফলে সেগুলো পরিচালনাও করেছেন তেল ও গ্যাস শিল্পের শ্রমিকেরাই।

এ প্রসঙ্গে ইথিয়ের বলেন, ‘পুরো নির্মাণকাজজুড়ে আমাদের হয়ে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ কাজ করেছে। এটি বাদেও জ্বালানি ও পানি সরবরাহের জন্য এবং পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা স্থানীয়ভাবে সেবা নিয়েছি। ওই এলাকার স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁগুলোও এর সুফল ভোগ করেছে।’

অ্যালবাকারকি জার্নালের প্রতিবেদন বলছে, নতুন এ প্রযুক্তি বর্তমানে এনহান্সড জিওথার্মাল সিস্টেম বা ইএসজি নামে পরিচিত। এখনও এর পেছনে কয়েক বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন। এটি এমন এক প্রযুক্তি যার পুনরায় উদ্ভাবন দরকার নেই। কারণ, এই প্রযুক্তি ও দক্ষতা আগে থেকেই রয়েছে। শুধু খননকাজ শুরু করা বাকি। সূত্র : অ্যালবাকারকি জার্নাল 

জিওথার্মাল এনার্জি ব্যাবহার করে যেভাবে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ

একবার গর্ত খনন হয়ে গেলে কূপের মধ্যে পাম্প করে পাঠানো হয় ঠান্ডা পানি। ওই পানি ভূগর্ভের ৩৫০ থেকে ৪০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে উত্তপ্ত হয়। এরপর টারবাইন জেনারেটর চালানোর জন্য বাষ্প তৈরি করতে ওই পানি ভূপৃষ্ঠে ফিরিয়ে আনা হয়।

প্রথাগত কূপগুলো সাধারণত তিন হাজার ফুটের নীচে যেতে পারে না। ফারভোর লক্ষ্য আট থেকে ১০ হাজার ফুট নিচ পর্যন্ত খনন করে অনেক বেশি তাপকে ব্যবহার করা, যাতে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

ফারভোর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স লরা সিঙ্গার বলেন, ‘কিছু কোম্পানি ভূগর্ভের আরও গভীরে অত্যন্ত গরম শিলা পর্যন্ত খননের পথ খুঁজছে। তবে আমরা নই। আমাদের লক্ষ্য মাঝারি গভীর পর্যন্ত খনন করা, যেখানে আমরা বিদ্যমান তেল এবং গ্যাস খননের সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা