প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১০:০৬ এএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১০:৪৩ এএম
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদিদের উপাসনালয় সিনাগগে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। পরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে হামলাকারী নিহত হন।
শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে শহরের নেভ ইয়াকভ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
এই হামলাকে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলা বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই বন্দুক হামলার ঘটনায় ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে প্রাণঘাতী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের পুলিশ কমিশনার কোবি শাবতাই এ ঘটনাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ আক্রমণগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানী সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, হামলাকারী পূর্ব জেরুজালেমের এক ফিলিস্তিনি।
ইসরায়েলি পুলিশ দাবি করছে, রাত সোয়া ৮টার দিকে একটি গাড়িতে করে আসে বন্দুকধারী। এরপর উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত ভবনে গুলি চালায়, যখন প্রার্থনাকারীরা সিনাগগ থেকে বের হচ্ছিলেন। পরে ওই বন্দুকধারী ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।
১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর নেভ ইয়াকভ শহরটিকে জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করে ইসরায়েল। তবে ফিলিস্তিনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে ইসরায়েলের অবৈধ দখল বলে আসছে।
ঘটনাটি এমন দিনে ঘটল যেদিনকে হলোকাস্ট মেমোরিয়াল ডে হিসেবে পালন করা হয়। জার্মানির নাৎসী বাহিনীর হাতে হলোকাস্টে ৬০ লাখ ইহুদি হতাহতের ঘটনা স্মরণ করতে দিবসটি পালিত হয়।
শুক্রবারের ঘটনার পর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি টুইটবার্তায় লিখেছেন, ‘হলোকাস্ট দিবসে সিনাগগে প্রার্থনাকারীদের উপর হামলা করা ভয়ংকর। আমরা ইসরায়েলি বন্ধুদের পাশে পাছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।
পরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা প্রস্তাব দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা ছিল এটি।
এর পর থেকে গাজা থেকে ইসরায়েলে রকেট ছোড়া হয়, যার জবাবে বিমান হামলা চালিয়েছে তেলআবিব।
ফিলিস্তিনের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘এটি চরম সংযম অনুশীলনের মুহূর্ত।’
বন্দুক হামলার পর হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, ‘শুক্রবারের এই হামলা ছিল ইসরায়েলি দখলদারদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কারণ এর আগে দখলদাররা জেনিন শরণার্থী শিবিরে হামলা চালায়।’
সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স