প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:২৫ এএম
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৪৮ এএম
ফটো সংগৃহীত
পৃথিবীর সর্বদক্ষিণের মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। মহাদেশটির একটি অঞ্চলের নাম ব্রান্ট আইস শেলফ। অঞ্চলটির একটি হিমশৈল বা পাহাড়-আকৃতির বরফখণ্ড ব্রান্ট আইস শেলফ থেকে গত রবিবার আলাদা হয়ে গেছে।
ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিকা সার্ভের (ব্যাস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রান্ট আইস শেলফ থেকে যে হিমশৈলটি আলাদা হয়ে গেছে তার আয়তন ১ হাজার ৫৫০ বর্গকিলোমিটার, যা বৃহত্তম লন্ডনের প্রায় সমান।
গবেষকরা বলছেন, ব্রান্ট আইস শেলফ থেকে এত বড় একটি হিমশৈল আলাদা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রত্যাশিত ছিল এবং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হয়নি।
সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, প্রথমে এক দশক আগে বরফের চাঁইটিতে ফাটল আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। পরে গত দুই বছরে বড় ধরনের ফাটল দেখা যায়। ব্যাসের গবেষণা কেন্দ্র ব্রান্ট আইস শেলফে অবস্থিত। কেন্দ্রটি নিরাপদ আছে বলেই জানিয়েছেন হিমবিজ্ঞানীরা।
ব্যাসের হিমবিজ্ঞানী ডমিনিক হজসন বলেন, ‘এ হিমশৈলটি যে আলাদা হয়ে যাবে, তা আগে থেকে বোঝা যাচ্ছিল। এটা ব্রান্ট আইস শেলফের স্বাভাবিক আচরণ। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের বিজ্ঞানী ও মাঠকর্মীদের একটি দল পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এখন পর্যন্ত আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’
ব্রিটিশ আবহাওয়াবিদ ডেভিড ব্রান্টের নামানুসারে ব্রান্ট আইস শেলফের নাম রাখা হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটির শারীরিক বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫৫ সালে অ্যান্টার্কটিকার ওই অঞ্চলে তিনিই প্রথম অভিযানের সূচনা করেন।
এদিকে ব্রান্ট আইস শেলফে থাকা যুক্তরাজ্যের ব্যাস হ্যালি রিসার্চ স্টেশন নিরাপদে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে।
জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে অ্যান্টার্কটিকায় বরফের বৃদ্ধি কমেছে। অব্যাহতভাবে বরফ বৃদ্ধি কমায় ধবল মহাদেশটি ক্রমে ঝুঁকিতে পড়ছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টারের গত ডিসেম্বরের তথ্যমতে, টানা কয়েক বছর ধরে বরফ বৃদ্ধি কমলেও চলতি বছর (গত বছর) বরফ বৃদ্ধি যে হারে কমেছে, তা শঙ্কাজনক। গত ৪৫ বছরে এমনটি দেখা যায়নি।