প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:২৭ পিএম
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে চলা বিক্ষোভ নিষ্ঠুরভাবে দমন করার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে সুইজ়ারল্যান্ডে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ।
সুইস ফেডারেল প্রসিকিউটরের অফিসে গত মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) সেদেশের দণ্ডবিধির ২৬৪ ধারায় (গণহত্যা ও মানবতারর বিরুদ্ধে অপরাধ) অভিযোগ দায়ের করেছে ‘গের্নিকা ৩৭ চেম্বারস’ নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
বিশ্বের বস্বনামধন্য অপরাধ ও মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত এই গের্নিকা ৩৭ চেম্বারস।
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা টোবি ক্যাডম্যান জানিয়েছেন, যোগীর বিরুদ্ধে আনীত ক্রিমিনাল রিপোর্টে ক্ষতিগ্রস্ত ও অভিযোগকারীদের পরিচয় এবং মামলার আবেদনকারীদের বিষয়ে তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। তাদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে মিথ্যা মামলায় জেলে কাটাতে হয়েছে অনেককে। খুন হয়েছে, অত্যাচারের শিকার হয়েছেন অনেককে। ভারতের সাধারণ মানুষের উপরে, মূলত মুসলিমদের উপরে ছক কষে যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।’
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তাদের বিশ্বাস যোগী আদিত্যনাথসহ উত্তরপ্রদেশ সরকারের শীর্ষস্থানীয় সদস্যদের নির্দেশেই এ রাজ্যের পুলিশ ওসব অপরাধ করেছিল।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর যোগী এক বক্তৃতায় পুলিশের উদ্দেশে বলেছিলেন, “বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘বদলা’ নিতে হবে। তাতে বোঝাই যাচ্ছে, পুলিশ রাজ্যে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রীর মদত রয়েছে।”
ঠিক এই সময়েই ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) অনুষ্ঠানে যোগী নিমন্ত্রণ পেয়েছেন। ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি সুইজ়ারল্যান্ডের ডাভোসে এই অনুষ্ঠান চলবে।
২০১৯-এর ডিসেম্বরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হয়। এরপর বহু মানুষ এই আইনের বিরুদ্ধে পথে নামেন। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভ দমন করার নামে পুলিশের হাতে খুন নিহত অন্তত ২২ জন, মারাত্নক অত্যাচারের শিকার হন ১১৭ জন এবং ৩০৭ জনকে অহেতুক আটক করা হয়েছিল।
সূত্র : দ্য টাইমস মিনিট।