প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:০৩ পিএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:০৭ পিএম
অস্ত্র হাতে প্রহরায় এক তালেবান সদস্য।
চুরির অপরাধে আফগানিস্তানে চারজনের হাত কেটে নিয়েছে তালেবান। দেশটির কান্দাহারের আহমদ শাহি স্টেডিয়ামে প্রকাশ্যে ওই চারজনের হাত কেটে নেওয়া হয়।
এ ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে নয়জনকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়। অভিযুক্তদের ৩৫ থেকে ৩৯বার বেত্রাঘাত করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরে তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ফের সমালোচনায় সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
কান্দাহারের গভর্নর অফিসের মুখপাত্র হাজি জায়েদ জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের হাত কেটে নেওয়ার পাশাপাশি নয়জনকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। ঘটনার সময় স্টেডিয়ামে ছিলেন তালেবান কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা, স্থানীয়রা।
আফগান সাংবাদিক তাজুদেন সরোশ টুইটারে স্টেডিয়ামে শাস্তি প্রয়োগের ওই ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শাস্তির আগে মাঠের ওপর বসে রয়েছেন অভিযুক্তরা।
ওই সাংবাদিক নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘এটি কেবলই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। ১৯৯০ সালে তালেবানরা যেভাবে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া শুরু করেছিল, সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।’
এদিকে আফগান পুনর্বাসন এবং যুক্তরাজ্যের শরণার্থী-বিষয়কমন্ত্রীর সাবে নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা শবনম নাসিমি বলেছেন, ‘তালেবানরা আজ কান্দাহারের একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে দর্শকদের সামনে চুরির অভিযোগে ৪ জনের হাত কেটে দিয়েছে। আফগানিস্তানে ন্যায্যবিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষকে বেত্রাঘাত করা হচ্ছে, অঙ্গ কেটে ফেলা হচ্ছে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’
তিনিও তালেবানদের এই নির্মম শাস্তিদানের ছবি শেয়ার করেছেন। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল তালেবান। পুনরায় আফগানিস্তান দখল করার পর এটাই ছিল প্রথম প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড।
সংবাদ মাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শত শত দর্শক এবং তালেবানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওই মৃত্যুদণ্ডের সময় উপস্থিত ছিলেন।
দেশটির পশ্চিমের ফারাহ প্রদেশে অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে গুলি করে ওই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
সূত্র : জি নিউজ।