প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:০৬ পিএম
আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:২৫ পিএম
দুর্ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ১৫ জানুয়ারি তোলা। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে পর্যটন শহর পোখারা যাওয়ার পথে রবিবার ৭২ জন আরোহী নিয়ে নেপালের ইয়েতি এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির ককপিট ভয়েস রেকর্ডার ও ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার উভয় উদ্ধার করা হয়েছে, যা ব্ল্যাক বক্স নামে পরিচিত। বক্স দুটির তথ্য বিশ্লেষণ করে বিধ্বস্তের ঘটনার প্রকৃত কিছু কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেতে কয়েক মাস লেগে যেতে যারে।
সোমবার (১৬ জানুয়ারি) কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের কর্মকর্তা টেকনাথ সিতৌলা রয়টার্সকে বলেন, ‘বক্স দুটি এতটা নষ্ট হয়নি। বক্স দুটির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখার জন্য তা সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হবে। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি নির্মাণ করেছে ফ্রান্স ও ইতালিভিত্তিক কোম্পানি এটিআর।
আহাওয়া ছিল অনুকূল
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পোখারা বিমানবন্দরে নামার এক কিলোমিটার আগে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। অথচ আকাশ ছিল পরিষ্কার। এমনকি অবতরণের জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগও শেষ করেন পাইলট।
অনুপ জোশি নামের বিষয়-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পোখারা বিমানবন্দরে অবতরণের আগে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি বা অসুবিধার কথা জানাননি পাইলট। পাহাড়ি অঞ্চলের আকাশ ছিল পরিষ্কার। দুর্যোগপূর্ণ আহাওয়ার কোনো বিষয় ছিল না।’
উদ্ধার তৎপরতা চলবে
পোখারার পুলিশ কর্মকর্তা অজয় কে সি বলেন, ‘মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও কুয়াশার কারণে রবিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উদ্ধারকার্য স্থগিত করা হয়। আজ (সোমাবার) থেকে তা ফের শুরু হবে। এখন পর্যন্ত চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তারা হয়তো জীবিত নেই। কিন্তু তাদের মরদেহ উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলবে।’
মোট হতাহত
বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটিতে যাত্রী ছিলেন ৬৮ জন, যাদের ১৫ জন বিদেশি। আর ক্রু ছিলেন চারজন। সর্বশেষ খবরে ৬৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।
শোক ঘোষণা
নেপালে দুর্ঘটনা বিরল নয়। ২০০০ সাল থেকে দেশটিতে বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৫০ জন নিহত হয়েছেন।
তবে রবিবারের দুর্ঘটনা ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। এমন শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে পুরো নেপাল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল সোমবার জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছেন।
সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি।