প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:০৮ পিএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:২১ পিএম
চেরনোবিলের পর ২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্যোগ ছিল বিশ্বে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিপর্যয়। ছবি : সংগৃহীত
বিধ্বস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০ লাখ টনেরও বেশি পানি এ বছরই সমুদ্রে উন্মুক্ত করবে জাপান। আন্তর্জাতিক পরমাণু জ্বালানি সংস্থা (আইএইএ) বলছে, জাপানের এ প্রস্তাব সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশগুলো।
চেরনোবিলের পর ২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্যোগ ছিল বিশ্বে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিপর্যয়।
শুক্রবার জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিরোকাজু মাৎসুনো বলেন, এ বসন্ত বা গ্রীষ্মের কোনো একটা সময়ের মধ্যে এই পানি সমুদ্রে ছাড়া হবে বলে ধারণা করছি আমরা। এ কাজ করার আগে তাদের সরকার আইএইএর কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন সংগ্রহ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, পারমাণবিক কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন ১০০ কিউবিক মিটার করে দূষিত পানি উৎপন্ন হয়। এটি ভূগর্ভস্থ, সামুদ্রিক পানি এবং মিঠা পানির একটি মিশ্রণ। রিঅ্যাক্টর শীতল রাখার কাজে ব্যবহৃত হয় এই পানি। পরে ফিল্টার করে তা নির্দিষ্ট ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করা হয়।
এভাবে কেন্দ্রটিতে বর্তমানে ১৩ লাখ কিউবিক মিটার পানি জমা হয়ে গেছে। ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের পরিচালক টেপকো বলছে, পানি থেকে বেশিরভাগ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পানির ট্রিটিয়ামের মাত্রাও রাষ্ট্রীয় মানের কিছুটা ওপরে রয়েছে।
এসবের ভিত্তিতে এ পানি সমুদ্রে ছাড়ার প্রস্তাব সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যানুসারে, পানি থেকে ট্রিটিয়াম সরানো খুব কঠিন। মানবদেহে বেশি পরিমাণে প্রবেশ করলে এটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিরোধিতা
এরই মধ্যে জাপানের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে প্রতিবেশী দেশ এবং স্থানীয় জেলেরা। প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ফোরাম জাপানের স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে সমালোচনা করেছে।
ফোরামের মহাসচিব হেনরি পুনা বলেন, প্রশান্ত এলাকার বাসিন্দারা উপকূলীয় মানুষ। তাদের জীবিকা নির্বাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সমুদ্র। ২০২১ সালে শীর্ষপর্যায়ে আমরা যখন সম্মেলন করেছিলাম, তখন সেটিতে তাদের নেতারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা ভাঙছে জাপান।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় সম্মত হয়েছিল যে, এভাবে পানি উন্মুক্তের আগে আমাদের সবার হাতে মুক্ত ও প্রমাণযোগ্য বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ থাকবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাপান এক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে না।
কী হয়েছিল ফুকুশিমায়
১১ মার্চ ২০১১ সালে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে উত্তর-পূর্ব জাপান। পরে এ থেকে দেখা দেয় বড়মাপের সুনামি। ঢেউ আঘাত হানে ফুকুশিমা ডাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। তিনটি রিঅ্যাক্টর তলিয়ে যায় এবং বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়।
কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয়তা বের হতে শুরু করলে দেড় লাখ মানুষকে আশপাশের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। গোটা এলাকা এখনও সেভাবেই রয়েছে। সূত্র : বিবিসি