প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:২০ পিএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৫৫ পিএম
রাশিয়ার চিফ অব জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ। ছবি : সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে রাশিয়ার শীর্ষ কমান্ডার হিসাবে জেনারেল গেরাসিমভ সের্গেই সুরোভিকিনকে নিয়োগের মাত্র তিন মাস পর তাকে সরিয়ে দিয়েছেন।
তার পরিবর্তে চিফ অব জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ এখন ইউক্রেন যুদ্ধের নেতৃত্ব দেবেন। পুতিন অবশ্য এই যুদ্ধকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলে অভিহিত করেছেন।
ভ্যালেরি গেরাসিমভ ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক নৃশংস হামলার তদারকি করেছেন বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক সামরিক পরাজয়ের পর পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার অগ্রগতি দাবির পর এই রদবদল ঘটল।
রাশিয়া গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে। জেনারেল গেরাসিমভ ২০১২ সাল থেকে এই পদে রয়েছেন, তিনি সোভিয়েত-পরবর্তী যুগের রাশিয়ান চিফ অফ জেনারেল স্টাফদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেনারেল সুরোভিকিন এখন তার ডেপুটি হিসাবে কাজ করবেন। সিরিয়ায় রাশিয়ার অভিযান এবং বিশেষ করে আলেপ্পো শহরে ভারী বোমাবর্ষণসহ পূর্ববর্তী যুদ্ধগুলোতে সুরোভিকিনের নৃশংস কৌশলের জন্য ‘জেনারেল আর্মাগেডন’ নামে অভিহিত করা হয়।
গত অক্টোবরে অপারেশনের নেতৃত্বে নিযুক্ত হওয়ার অল্প সময় পরেই রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করার জন্য হামলা শুরু করে।
লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিককে শীতের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বা পানি ছাড়াই থেকেছিল। সুরোভিকিন দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসন থেকে রাশিয়ার প্রত্যাহারও তদারকি করেছিলেন। কিন্তু, সেখানে সফলাতা পেয়েছিল ইউক্রেনীয়দের সেনারা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, জেনারেল সুরোভিকিনকে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল ‘সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সংগঠিত করা এবং রাশিয়ান বাহিনীর পরিচালনার মান ও কার্যকারিতা উন্নত করা।’
সামরিক বিশ্লেষক রব লি টুইটারে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনে কমান্ডার হিসাবে সুরোভিকিন খুব শক্তিশালী হয়ে উঠছিলেন।’
রাশিয়ার কিছু সামরিক ব্লগার যুদ্ধকে সমর্থন করলেও যেভাবে এটি পরিচালিত হচ্ছে প্রায়শই তার সমালোচনা করে। তারা বিশেষ অভিযানের নতুন প্রধান জেনারেল গেরাসিমভসহ রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বেরও বেশ সমালোচনা করেছে।
সোলেদারে লড়াই অব্যাহত থাকা অবস্থায় গত বুধবার (১১ জানুয়ারি) নেতৃত্বের পরিবর্তনের এই ঘোষণা আসে।
সোলেদারের দখল নিতে পারলে রাশিয়ান সেনারা কৌশলগত শহর বাখমুতে আক্রমণ সহজ হতে পারে। এতে করে তারা দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১০ কিলোমিটার (ছয় মাইল) দূরে তাদের শহরের সীমার মধ্যে একটি সুরক্ষিত অবস্থান তৈরী করতে পারবে।
সোলেদারের গভীর লবণের খনিও রয়েছে। এই খনি ইউক্রেনীয় ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সুরক্ষিত। তাই এই খনি সেনা সমাবেশ এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
গত মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) রাতে ভাড়াটে সেনা গ্রুপের ওয়াগনারের নেতা ইয়েভজেনি প্রিগোজিন বলেছেন, তার বাহিনী সোলেদারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
গত বুধবার রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে ওই দাবির বিরোধিতা করছে। যার ফলে প্রিগোজিন গত বুধবার সন্ধ্যায় টেলিগ্রামে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি গর্ব করেছেন যে, তার ভাড়াটে সেনারা প্রায় ইউক্রেনের ৫০০ সেনাকে হত্যা করেছে।
তিনি লিখেছেন, ‘পুরো শহর ইউক্রেনীয় সেনাদের লাশে ছেয়ে গেছে।’ ইউক্রেনও সম্প্রতি রাশিয়ান লাশের গাদা সম্পর্কে একই ধরনের মন্তব্য করেছে।
সূত্র : বিবিসি।