প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২২ ১৪:২০ পিএম
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২ ১৫:৩৩ পিএম
ছবি; আরটি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রস্তাবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং ইরানের মধ্যে পুনরায় চালু হচ্ছে পারমাণবিক চুক্তি। এ চুক্তি অনুসারে তেহরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবে। যার বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা।
প্রস্তাবিত চুক্তির সম্পর্কে অবগত সূত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছে, নতুন এ চুক্তিটি ৬০ দিন মেয়াদের চারটি ধাপে সম্পন্ন হবে।
চুক্তি অনুসারে, পারমাণবিক কার্যক্রম কমিয়ে আনার বিপরীতে ছাড় পাবে বিদেশি ব্যাংকে থাকা তেহরানের জব্দ হওয়া অর্থ ও তেল রপ্তানি।
যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা হয়। সম্প্রতি যা কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তিটি জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত।
ইরানের আলোচনাকারী দলের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মারান্দি এই সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন , চুক্তিটি নিশ্চিত করার জন্য আমরা আগের চেয়ে অনেক কাছাকাছি চলে এসেছি। আর যে সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে, তা সমাধান করা খুব কঠিন নয়।
গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রস্তাবটির চূড়ান্ত খসড়া জমা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এটি অনুমোদন করে জানায়, ইরান যদি প্রস্তাবটি গ্রহণ করে তবে তারা দ্রুত চুক্তিটি বাস্তবায়ন করতে চায়।
বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, প্রস্তাবে বলা হয়েছে চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিন ইরানের ১৭টি ব্যাংকের পাশাপাশি ১৫০টি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। তেহরানও অবিলম্বে তাদের পারমাণবিক প্রযুক্তিকে উন্নত করার জন্য যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা পরিবর্তন করবে।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এখন ৬০ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ। ২০১৫ সালে চুক্তি করার সময় এর পরিমাণ ছিল মাত্র তিন দশমিক ৬৭শতাংশ। শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে এর ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম বাড়ানো প্রয়োজন।
নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের ১২০ দিনের মধ্যে ইরানকে প্রতিদিন ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে। এ ছাড়া ইরানের তহবিলের ৭ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করা হবে। যা বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে আছে।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে সরে আসে এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে এবারের চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে গেলে তাদের জরিমানা দিতে হবে।
প্রবা/এনএস