প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২২ ১১:২১ এএম
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২ ১১:৫৮ এএম
জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
ইউক্রেনের যুদ্ধকবলিত জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শন ও তদন্তে মস্কো জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের অনুমতি দেবে বলে সম্মতি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও রুশ প্রেডিসডেন্টের মধ্যে ফোনালাপের পর এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন ওই ঘোষণা দেয়।
পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে হামলা শুরুর পরপরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র গত মার্চে রুশ সেনাদের হাতে চলে যায়। তবে এখনো ওই এলাকায় দুই পক্ষের সেনাদের লড়াই চলছে। এতে পারমাণবিক কেন্দ্রটির নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি হামলায় কেন্দ্রটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এ হামলার জন্য মস্কো ও কিয়েভ পরস্পরকে দায়ী করছে।
ইউক্রেনের অভিযোগ, রুশ সেনারা পারমাণবিক স্থাপনাটি নিয়ে ব্ল্যাকমেল করছেন। সেখানে ভারী অস্ত্র মোতায়েন করেছেন। তবে মস্কোর পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে দুই পক্ষের লড়াইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, জাপোরিঝিয়ার সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের ক্ষতিসাধন হবে আত্মঘাতী।
জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ইউক্রেন সফরে এসে তিনি বলেন, জাপোরিঝিয়া কেন্দ্র ঘিরে ‘আরেকটি চেরনোবিল’ বিপর্যয়ের বিষয়ে আমি উদ্বিগ্ন।
এমন উদ্বেগের পর রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রায়াবকভ বলেন, জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি চেরনোবিলের মতো কোনো ঘটনা সৃষ্টি করবে না, এ নিশ্চয়তা দিচ্ছে মস্কো।
পারমাণবিক কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ও যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিভিভে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এরদোয়ান ও গুতেরেস।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ইউক্রেনের ওই পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে বর্তমান যে পরিস্থিতি, তা নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। লিভিভে বৈঠকের পর জাতিসংঘ মহাসচিব ওদেসা বন্দরে যান।
এদিকে বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য প্রায় ৮০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে ফোনালাপ করেন পুতিন ও ম্যাখোঁ। পরে ক্রেমলিনের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র এলাকায় জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের প্রবেশাধিকারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছেন পুতিন।’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ওই এলাকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) বিশেষজ্ঞদের পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন উভয় নেতা।’
জাতিসংঘের এই পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রুসি পুতিনের এ সংক্রান্ত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমি নিজেই ওই কেন্দ্র পরিদর্শনে নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী।
গ্রুসি বলেন, ‘এ ভঙ্গুর ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে এখন এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, যাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিঘ্নিত হয়।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তবে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে বিস্তারিত পাওয়া যায়নি।
এর আগে কিয়েভ অভিযোগ করেছিল, রাশিয়া ওই কেন্দ্রটিকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। সেখানে সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্র ও পাঁচ শতাধিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে দিনেপিয়ার নদী অঞ্চলজুড়ে বড় হামলা চালাতে পারে তারা।
আঞ্চলিক গভর্নর ভ্যালেন্টাইন রেজনিচেঙ্ক দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলায় ওই কেন্দ্র এলাকার পাঁচটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘকে সেখানে প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হলেও রুশ কর্মকর্তারা পারমাণবিক কেন্দ্রটিকে নিরস্ত্রীকরণের আন্তর্জাতিক দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও সংবাদমাধ্যম বিভাগের উপপরিচালক ইভান নেচায়েভ বলেন, এ পরিস্থিতিতে ওই কেন্দ্র ছেড়ে আসা মানে আরও ঝুঁকি বাড়ানো।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে চিঠি দিয়েছে রাশিয়া। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কিয়েভ ষড়যন্ত্র করছে।
তবে সেখানে সেনা মোতায়েনের অভিযোগ চিঠিতে অস্বীকার করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রটিতে কিয়েভ বাহিনীর হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রবা/এইচকে/এসআর