প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:১৭ পিএম
প্রতীকী ছবি।
ভারতে নারীর প্রতি সহিংসতার পরিমাণ ২০২২ সালে বহু গুণ বেড়েছে। দেশটির জাতীয় নারী কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর সেদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
গত বছর জাতীয় নারী কমিশনে নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে, তার অধিকাংশই শারীরিক, যৌন ও মানসিক নির্যাতনের।
কমিশনের ‘পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে নারীদের সুরক্ষা’ আইনে শুধুমাত্র ২০২২ সালেই জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার অভিযোগ। এ ছাড়া, গত ১ বছরে সার্বিকভাবে নারীদের ওপর অপরাধের অভিযোগ জমা পড়েছে মোট ৩১ হাজার।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে জাতীয় নারী কমিশনে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ জমা পড়েছিল ২৩ হাজার ৭০০টি। ২০২২ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৮০০-তে।
এই সমস্ত অভিযোগের মধ্যে অন্তত ৩০ হাজার ৭০০টি অভিযোগের ক্ষেত্রে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা। যা তাদের উপযুক্ত সম্মান এবং মর্যাদা নিয়ে বাঁচার ক্ষেত্রে পরিপন্থি।
এছাড়া, ৬ হাজার ৯৭০টি ক্ষেত্রে অভিযোগের বিষয় ছিল পারিবারিক সহিংসতা এবং ৪ হাজার ৬০০টি ক্ষেত্রে ছিল যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতন।
পরিসংখ্যান বলছে, বেশিরভাগ অভিযোগ জমা পড়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ থেকে। সেখানে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ ১৬ হাজার ৮৭২টি (৫৪.৫ শতাংশ)। ৩ হাজার ৪টি অভিযোগ (১০ শতাংশ) নিয়ে এরপরেই রয়েছে রাজধানী শহর দিল্লি।
মহারাষ্ট্র, বিহার, হরিয়ানায় গত এক বছরে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ জমা পড়েছে যথাক্রমে ১৩৮১টি, ১৩৬৮টি এবং ১৩৬২টি। ২০২২ সালে নারীদের ওপর নির্যাতনের দৃষ্টান্ত হিসেবে দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়ালকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এখানে উল্লেখ করা যায়।
রাজধানীর বুকে প্রেমিকাকে খুন করার পর দেহ টুকরো টুকরো করে কেটেছিলেন অভিযুক্ত আফতাব। সেই দেহাংশ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন জঙ্গলে। খুনের বীভৎসতায় শিউরে উঠেছিল পুরো ভারত।
২০২২ সালে জাতীয় নারী কমিশনে জমা পড়া মোট অভিযোগের সংখ্যাও রেকর্ড গড়েছে। মোট অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৯০৬টিতে। ২০১৪ সালের পর যা সর্বোচ্চ।
কমিশনের চেয়ারপারসন রেখা শর্মা বলেছেন, ‘আমরা এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপের পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারও চালাই। কিন্তু এ বিষয়ে জাতীয় স্তরে উদ্যোগ এবং প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে।’