প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ০৯:৪৪ এএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৪৫ পিএম
ব্রাজিলের বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর সমর্থকেরা। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভবন, কংগ্রেস ও সুপ্রিম কোর্টে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর সমর্থকরা। এ ঘটনায় অন্তত ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী ফ্লাভিও ডিনো।
স্থানীয় সময় রবিবার (৮ জানুয়ারি) এ হামলা চালায় তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বলসোনারোর সমর্থকরা জাতীয় কংগ্রেস ও সুপ্রিম কোর্টের ভবনের জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। এর মধ্যে কেউ কেউ ফাঁকা সিনেট ভবন, কেউ প্রেসিডেন্ট ভবন, সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য সরকারি ভবনে প্রবেশ করেছে। তবে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, তারা এখন কংগ্রেস ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সূত্র : বিবিসি ও আলজাজিরা।
দেশটির সম্প্রচার মাধ্যম গ্লোবো নিউজের ছবিতে বিক্ষোভকারীদের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এ সময় বলসোনারো সরকারের প্রতীক ও দেশটির জাতীয় রঙের সবুজ, হলুদ পোশাক ও পতাকা নিয়ে হামলায় অংশ নেন তারা।
জাতীয় রঙের পোশাক পরে ব্রাজিলের কংগ্রেস ভবনে প্রবেশ করে হামলাকারীরা
আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায়, লুলা রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় একটি ফেডারেল নিরাপত্তার ঘোষণা দিয়েছেন। যা এ মাসের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
দেশটির প্রধান বিচারপতি রোজা ওয়েবার ও বিচারপতি আলেকজান্দ্রে ডি মোরেস দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে হামলাকারীদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের প্রধানরা।
ব্রাসিলিয়ার গভর্নর ইবানেস রোচা এক টুইট বার্তায় জানান, হামলার ঘটনায় ৪০০ জনের বেশি লোককে আটক করা হয়েছে। কিন্তু, ব্রাজিলের পুলিশ পরে এ সংখ্যা ৩০০ জন বলে জানান। তবে বিচারমন্ত্রী ফ্লাভিও ডিনো জানিয়েছেন, অন্তত ২০০ জনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তরের অনুরোধে সোমবার ভোরে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ব্রাসিলিয়ার ফেডারেল জেলার গভর্নর ইবানেস রোচাকে অপসারণ করেছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক ভিডিওতে এই হামলা দমনে ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চান রোচা।
হামলার পর এক সংবাদ সম্মেলনে লুলা এর জন্য বলসোনারো ইন্ধন জুগিয়েছে বলে অভিযোগ আনেন। এতে তিনি বলেন, ‘এ গণহত্যাকারী (বলসোনারো) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় হামলায় ইন্ধন জুগিয়েছে। সবাই জানেন সাবেক এই প্রেসিডেন্টের অনেক বক্তব্যেই হামলা করতে উস্কে দেওয়া হয়। তবে যারা এ কাজ করেছে তাদের খুঁজে বের করা হবে এবং তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যান বলসোনারো। গত সপ্তাহে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে লুলা দায়িত্ব গ্রহণ করলেও বলসোনারোর হার এখনো মেনে নিতে পারেনি তার সমর্থকরা। যে কারণে এমন হামলা ও ভাঙচুর শুরু করে তারা।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরাও ২০২০ সালে ক্যাপিটল হিল ভবনে হামলা চালিয়েছিল। ব্রাজিলের এ হামলাও তারই আদলে করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ব্রাজিলের এ পরিস্থিতিকে ‘আতঙ্কজনক’ বলে মন্তব্য করে লুলার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন।
এক টুইট বার্তায় এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বাইডেন বলেন, ‘ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে ব্রাজিলের জনগণের ইচ্ছাকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।’