প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:১৩ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৪৮ পিএম
সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ইয়াঙ্গুনে। ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারের সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থান দুবছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। কিন্তু দুবছরেও নিজেদের শাসন সংহত করতে পারেনি জান্তা সরকার। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা গণপ্রতিরক্ষা বাহিনীর (পিডিএফ) সঙ্গে জান্তা বাহিনীর প্রায় প্রতিদিনই রক্তক্ষয়ী সংঘাত হচ্ছে।
জান্তা বাহিনীর সঙ্গে পিডিএফের সংঘর্ষে প্রতিদিনই পাঁচ-ছয়জন মানুষ নিহত হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে জান্তার বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য, পিডিএফ ও পুরোনো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যাক সাধারণ মানুষও রয়েছে। তা ছাড়া এসব সংঘর্ষে গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যাচ্ছে। উদ্বাস্তু হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
জান্তার হাতে নিহত
জান্তার হাতে নিহতের পরিসংখ্যান রাখছে অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। এএপিপির ৫ জানুয়ারির হালনাগাদ, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৭০৭ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে।
গ্রেপ্তার হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯২ জন। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তারদের ৩ হাজার ৬৯৬ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
জান্তার সদস্য নিহত
মিয়ানমারের চলমান ঘটনার সার্বিক চিত্র পাওয়া দুরূহ। তারপরও বিভিন্ন তথ্য থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা কিছুটা অনুমান করা যায়।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের আড়াই মাসের মাথায় ১৬ এপ্রিল গঠিত হয় জাতীয় ঐক্য সরকার (নাগ)। পরের মাসে ৫ মে গঠিত হয় নাগের সশস্ত্র শাখা গণপ্রতিরক্ষা বাহিনী।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক স্টেট কাউন্সিলর ও ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চির পার্টির নেতারা ওই দুটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম গঠন করলেও তাদের সঙ্গে দেশটির পুরোনো কিছু সশস্ত্র বাহিনী যোগ দেয়।
স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে কয়েক যুগ ধরে সংগ্রামরত এসব সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যারা পিডিএফের সঙ্গে মিলে জান্তাবিরোধী আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে পূর্ব মিয়ানমারের কারেনি ন্যাশনালিটিস ডিফেন্স ফোর্স (কেএনডিএফ) বা কারেনি আর্মি অন্যতম। এটি কায়াহ রাজ্যের কারেনি ন্যাশনাল প্রগ্রেসিভ পার্টির সশস্ত্র শাখা।

প্রশিক্ষণে কেএনডিএফের সদস্যরা। গত ২১ জুন। ছবি : সংগৃহীত
থাইল্যান্ড থেকে পরিচালিত এনএলডির মুখপাত্র ইরাবতির তথ্যমতে, কারেনি আর্মি ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যাক জান্তাবিরোধী শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণ-তরুণীদের আশ্রয় দিয়েছে। নাগ ও পিডিএফের সহায়তায় তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কারেনি আর্মি ও নতুন প্রশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা ২০২১ সালের মে থেকেই জান্তাবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে।
২০২১ সালের মে মাসে সংগ্রাম শুরু করার পর গত ডিসেম্বর পর্যন্ত জান্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের ৫৪৪টি সংঘাত হয়। এতে জান্তার সেনা, পুলিশ ও বর্ডার গার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীর অন্তত ১ হাজার ৬৯২ জন সেনা নিহত হয়। একই সময়ে নিজেদের নিহত হয় ২১১ জন প্রতিরোধযোদ্ধা।
এসব সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ নিহত হয় অন্তত ২৯৩ জন। বাড়িঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয় প্রায় এক হাজার ৩০৯টি। স্থানচ্যুত হয় কয়েক হাজার মানুষ।
চলতি সামরিক শাসনে মিয়ানমারে কত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারে অন্তত ১২ লাখ মানুষ দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
একপর্যায়ে কারেন রাজ্যের সংঘাতের ঢেউ পার্শ্ববর্তী শান রাজ্যে এসে লাগে। রাজ্যটির বিদ্রোহীদেরও একটা অংশ কারেনি আর্মির সঙ্গে হাত মেলায়। হতাহতের মধ্যে তাদেরও কিছু সদস্য রয়েছে।
টাটকা সংঘাত
মিয়ানমার দুর্গম ও বিশাল দেশ। ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক গুরুত্ব সত্ত্বেও দেশটি সম্পর্কে আমরা অনেক কম জানি।
ইরাবতির তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতিদিনই জান্তা বাহিনীর সঙ্গে পিডিএফের সংঘাত হচ্ছে। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) এরকম একটি সংঘাত হয়েছে দেশটির সাগাইং বিভাগে।
সাগাইং বিভাগের সাগাইং টাউনশিপে স্থানীয় পিডিএফের সদস্যদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় জান্তার নিয়মিত বাহিনী ও জান্তা সমর্থক স্থানীয় কিছু সশস্ত্র বাহিনী।
সংঘাতে সীতাগু বৌদ্ধ অ্যাকাডেমির ভিক্ষু অশিন গদার্থরাসহ অন্তত চার ব্যক্তি নিহত হয়। একই সঙ্গে দুই প্রতিরোধযোদ্ধাও নিহত হয়।

সাগাইং টাউনশিপে জান্তার বাহিনীর হামলায় এক ভিক্ষুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হন। ৬ জানুয়ারি তোলা। ছবি: সংগৃহীত
সীতাগু বৌদ্ধ অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সিতাগু সায়াদওয়া আশিন নিয়ানিসারা জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
সাম্প্রতিক সংঘাত
পিডিএফের সাম্প্রতিক হামলায় ছয় দিনে জান্তা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের অন্তত ১১০ সদস্য নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। একই সময়ে পিডিএফেরও আট সদস্য নিহত হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারির মধ্যে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে জান্তার বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে পিডিএফের বন্দুকযুদ্ধে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
৩১ ডিসেম্বর ভোরে মিয়ানমারের কারেন রাজ্যের কিয়ানসাইকজি টাউনশিপে দেশটির বর্ডার গার্ড ফোর্সের (বিজিএফ) তিনটি ফাঁড়িতে একযোগে হামলা শুরু করে পিডিএফের স্থানীয় একটি বাহিনী। লায়ন ব্যাটালিয়ন কমান্ডো (এলবিসি) নামের ওই বাহিনীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) ভোর পর্যন্ত তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে ৯০ জনের বেশি বিজিএফ সদস্য নিহত হয়। এলবিসির নিহত হয় আট সদস্য।
ছয় দিনের বন্দুকযুদ্ধ শেষে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিজিএফ। এ সুযোগে কিয়ানসাইকজি টাউনশিপে বিজিএফের ওই তিনটি ফাঁড়ি দখল করে নেয় এলবিসি।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পূর্ববর্তী ছয় দিনে মিয়ানমারের সাগাইং, মান্দালয় ও ম্যাগওয়ে অঞ্চলেও পিডিএফ ও জান্তার বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এসব বন্দুকযুদ্ধে জান্তার নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত আরও ২০ সদস্য নিহত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে মিয়ানমারের গণমাধ্যম দ্য ইরাবতির এক প্রতিবেদনে।
জান্তার সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংলাপ
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানী নেপিদোতে তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তিন দিনব্যাপী এক আলোচনা শেষ করে জান্তা সরকার।
আলোচনায় অংশ নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হলো, শান স্টেট প্রগ্রেস পার্টি (এসএসপিপি), ইউনাইটেড ওয়া স্টেট পার্টি (ইউডব্লিউএসপি) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি।
দক্ষিণের শাস রাজ্যের বৃহত্তম বিদ্রোহী গোষ্ঠী এএসপিপির মুখপাত্র আলোচনা শেষে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় সামরিক সরকার। এজন্য তারা আমাদের সহায়তা চেয়েছেন। এতে আমাদের বাধা নেই।’
এএফপির অনুরোধে সাড়া দেয়নি ইউডব্লিউএসএর মুখপাত্র। ইউডব্লিউএসএ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। উত্তর দিকে চীন সীমান্তের ওয়া রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে ইউডব্লিউএসএর। এদের সঙ্গে চীনেরও ভালো সম্পর্ক রয়েছে।
গত মাসে আরও পাঁচটি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে আলোচনায় বসে জান্তা সরকার। আলোচনা শেষে তারা এক যৌথ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে জান্তার পরিকল্পিত নির্বাচনকে সমর্থনের ঘোষণা দেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো।
তবে মিয়ানমারের ২০-এর বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অধিকাংশ জান্তার পরিকল্পিত নির্বাচনের বিরোধী। কারণ এসব লোক দেখানো নির্বাচনের মাধ্যমে জান্তা ক্ষমতা নির্ঝঞ্জাট করতে চায় বলে মনে করেন তারা। এসব বিদ্রোহীদের একটা অংশ পিডিএফের সঙ্গেও রয়েছে। তবে, তা কত জানা যায় না।
সু চির খবর কী
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের একটি আদালত দেশটির সাবেক স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে আরও সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন। দুর্নীতিসংক্রান্ত পাঁচটি অভিযোগে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সু চির বিরুদ্ধে আনা সবধরনের অভিযোগের বিচার আপাতত শেষ হলো। শুক্রবারের (৩০ ডিসেম্বর) সাজা নিয়ে সু চির কারাদণ্ডের মোট মেয়াদ দাঁড়াল ৩৩ বছর।

অং সান সু চি। ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার যে পাঁচটি অভিযোগে ৭৭ বছর বয়সি সু চিকে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহার অন্যতম। এসব অভিযোগে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকেও শুক্রবার সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মামলাসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, ‘সু চির বিরুদ্ধে জান্তার দায়ের করা সব মামলা শেষ হলো। তার বিরুদ্ধে জান্তার আপাতত আর কোনো অভিযোগ নেই।’
কী করছে আন্তর্জাতিক মহল
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মিয়ানমারসহ বিশ্বের অন্য প্রান্তের বাকি ঘটনাগুলো কম গুরুত্ব পাচ্ছে। মিয়ানমারও সেই পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির শিকার। পশ্চিমাদের বাইরে গিয়ে আঞ্চলিক শক্তিশালী কোনো জোট না থাকায় এমনটি হচ্ছে।
গত ২২ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার পর মিয়ানমার নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের এটাই প্রথম প্রস্তাব। প্রস্তাবে সবধরনের সহিংসতা বন্ধ ও রাজনৈতিকবন্দিদের মুক্তি দিতে জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি উত্থাপনের উদ্যোগ নেয় যুক্তরাজ্য।
কিন্তু প্রস্তাবে তিন গুরুত্বপূর্ণ দেশ ভারত, চীন ও রাশিয়া ভোটদান থেকে বিরত থাকে। অর্থাৎ জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার পর মিয়ানমার নিয়ে ইতিহাসের প্রথম প্রস্তাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে নিরাপত্তা পরিষদ। লক্ষ্যণীয় বিষয়, চলতি মাসে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্সি ভারতের হাতে। মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের প্রায় ১৭ শ কিলোমিটারের যৌথ সীমানা রয়েছে।
স্ক্রলডটইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ ডিসেম্বর প্রস্তাবের পর জাতিসংঘে নিয়োজিত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রুচিরা কাম্বোজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল বলে মনে করে নয়া দিল্লি। এ পরিস্থিতিতে দেশটির সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের ‘ঠান্ডা মাথায় ধৈর্য ধরে কূটনীতি’ চালিয়ে যেতে হবে। তা না করে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব পাস দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিলতর করে তুলতে পারে।’
অন্যদিকে, আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তের পরিমাণ ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি। নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটি শেষে জাতিসংঘের চীনা প্রতিনিধি জাং জুন বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার নিয়ে যে প্রস্তাব পাস করেছে, তা নিয়ে বেইজিংয়ের আপত্তি রয়েছে। মিয়ানমার সংকট সমাধানের জন্য শর্টকাট কোনো পথ নেই। প্রস্তাব পাস না করে মিয়ানমার নিয়ে একটি সর্বসম্মত বিবৃতি দেওয়াটাই বেশি কাজের হতো।’
সীমান্ত না থাকলেও মিয়ানমার জান্তা সরকারের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। প্রস্তাবে ভোট না দেওয়া প্রসঙ্গে জাতিসংঘের রুশ প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি কোনো মতেই আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়। এ অবস্থায় নিরাপত্তা পরিষদের মিয়ানমারবিরোধী পদক্ষেপ শুধু অযথার্থই নয়, বরং আগামী দিনে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পথে বাধা।’
মিয়ানমারে ভারত ও চীনের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। উভয় দেশ মিয়ানমারে নৌবন্দরসহ কৌশলগত নানান অবকাঠামো নির্মাণ করছে। এই দুদেশের পাশাপাশি জাপানেরও বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে। আর অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তা সরকারকে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র বিক্রি করছে রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কিছু দেশ মিয়ানমারের ওপর কিছু টার্গেটেড নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু জান্তাকে কাবু করার জন্য এখন পর্যন্ত তা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে না।
আসিয়ানের তৎপরতা
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের এপ্রিলে মিয়ানমার জান্তাকে পাঁচ দফা দেয় দক্ষিণ এশীয় জাতিপুঞ্জের জোট (আসিয়ান)। সু চিসহ সব রাজনৈতিক নেতাকে মুক্তি, সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধান, জোটটির প্রতিনিধির সঙ্গে সু চির সাক্ষাৎ ওই পাঁচ দফার অন্যতম দফা।
প্রায় দুবছর পেরিয়ে গেলেও আসিয়ানের কোনো দফা পূর্ণ হয়নি। জোটটির বর্তমান চেয়ার কম্বোডিয়ায়। কম্বোডিয়ার সঙ্গে জান্তা ও চীনের সুসম্পর্ক। এ অবস্থায় মিয়ানমার সংকট সমাধানে আসিয়ানে চলতি বছর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আসিয়ানের সম্মেলন চলাকালে মিয়ানমার জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায়। ২০২১ সালের ২৪ এপ্রিল। ছবি : সংগৃহীত
তবে গত দুটি শীর্ষ বৈঠকে জান্তার কোনো প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানায়নি আসিয়ান। কিন্তু এসব জান্তার ওপর প্রকৃত কোনো চাপ তৈরি করছে না।