প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:২৪ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:০২ পিএম
মাটি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে পড়ছে খাবারে। দূষিত করে তুলছে সেগুলোকে। ছবি : সংগৃহীত
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি কোণায় রয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। প্লাস্টিকের এই অতি ক্ষুদ্রকণা খালি চোখে দেখা যায় না। সমুদ্রের পানি থেকে শুরু করে ভূমি, আর ভূমি থেকে আমরা যে খাবার খাই, তার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক।
নানাভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারে অনুপ্রবেশ করে থাকে। পশ্চিমাদেশে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয় ‘সুয়েজ স্লাজ’। নগরের বর্জ্যপানি পরিশোধনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায় এই সুয়েজ স্লাজ। আর সুয়েজ স্লাজের মধ্যে জৈব উপাদানের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে রয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক।
বিবিসির এক প্রতিবেদন বলছে, শুধু ইউরোপেই প্রতিবছর আনুমানিক ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টন সুয়েজ স্লাজ উৎপন্ন হয়। এর ৪০ শতাংশের ঠাঁই হয় চাষাবাদের জমিতে।
কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা বলছে, জমিতে সুয়েজ স্লাজ ব্যবহার করার কারণে ইউরোপের চাষাবাদের জমিগুলো এখন মাইক্রোপ্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর মহাদেশটির চাষাবাদের জমিতে জমা হচ্ছে ৩১ হাজার থেকে ৪২ হাজার টন মাইক্রোপ্লাস্টিক। আর মাইক্রোপ্লাস্টিক একবার কোথাও ঢুকে পড়লে সহজে তা সরানোও যায় না।
যেমন—ফিলিপস ইউনিভার্সিটি মারবার্গের গবেষকরা দুটি জমির মাটির পৃষ্ঠের ৯০ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক খুঁজে পেয়েছেন। মজার ব্যাপার হলো, যে দুই জমিতে এ উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, সেগুলোতে গত ৩৪ বছরে সার হিসেবে সুয়েজ স্লাজ ব্যবহার করা হয়নি।
এই মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যশস্যকে সরাসরি দূষিত করে। ২০২০ সালের এক গবেষণায় ইতালির সুপার মার্কেটে বিক্রি হওয়া ফল ও সবজির মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
নেদারল্যান্ডসের লেইডেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক উইলি পেইজেনবার্গের মতে, শস্য ন্যানোপ্লাস্টিক উপাদান শোষণ করে নিতে পারে। এরপরও শস্যের বেড়ে ওঠায় কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যায় না। তবে মানুষের স্বাস্থ্যে এর প্রভাব কতটুকু তা জানতে আরও গবেষণা করতে হবে।
অনেক দেশ ক্ষতিকর প্রভাব দেখে সার হিসেবে সুয়েজ স্লাজ ব্যবহার করছে না। যেমন—সুইজারল্যান্ডে ২০০৩ সাল থেকে চাষাবাদের কাজে সুয়েজ স্লাজের ব্যবহার নিষিদ্ধ। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাইন অঙ্গরাজ্যেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে এর ব্যবহার।
তবে কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, সুয়েজ স্লাজ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা কার্যকর সমাধান নয়। এ থেকে দেখা দিতে পারে আরেক বিপত্তি। কৃষকরা ঝুঁকে পড়তে পারে কৃত্রিম নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের দিকে। যা মূলত তৈরি হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে।
স্বাস্থ্যে প্রভাব
প্লাস্টিকের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে যে বিষাক্ত পদার্থগুলো রয়েছে, তা থেকে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে ক্যানসার, হৃদরোগ, ভ্রূণের দুর্বল বিকাশ প্রভৃতি।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হালের গবেষকদের বিশ্লেষণ বলছে, শরীরে ব্যাপক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করলে তা কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ থেকে পরবর্তী সময়ে প্রদাহ বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।