প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:১৪ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:২৬ পিএম
চার দিনে ১৫ দফা ভোট শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষেদের স্পিকার হলেন রিপাবলিকান পার্টির কেভিন ম্যাকার্থি। নির্বাচিত হওয়ার পর স্পিকারের দণ্ড হাতে কেভিন ম্যাকার্থি। ৭ জানুয়ারি তোলা।
যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট বা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের আসন সর্বশেষ কবে এতদিন শূন্য পড়েছিল, তা খোদ দেশটির অনেক রাজনীতিবিদরই অজানা। চার দিনে ১৫ দফা ভোট শেষে শুক্রবার অবশেষে স্পিকার নির্বাচন করতে সক্ষম হলো দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস। নতুন স্পিকার নির্বাচিত হলেন রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেসম্যান কেভিন ম্যাকার্থি।
গত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউসের মোট ৪৩৫ আসনের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টি পায় ২২২টি আসন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি পায় ২১২টি। স্পিকারের আসনটি হিসেবের বাইরে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করায় স্বাভাবিকভাবে স্পিকার হবেন রিপাবলিকের কোনো হাউস সদস্য বা কংগ্রেসম্যান কিংবা উইম্যান। কিন্তু নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে পার্টিটির কোনো স্পিকারপ্রার্থী প্রয়োজনীয় ২১৮ ভোট পাচ্ছিলেন না।
৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হাউসের স্পিকার হওয়ার দৌড়ে শুরু থেকে এগিয়ে ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকের কংগ্রেসম্যান কেভিন ম্যাকার্থি। বৃহস্পতিবারের (৫ জানুয়ারি) তিন দফা ভোট হয়। ওইদিন সর্বশেষ ১১তম দফায় ম্যাকার্থি পান ২০০ ভোট। এ অবস্থায় শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিপাবলিকান পার্টির ২০ সদস্যের একটি জোট ম্যাকার্থির স্পিকার হওয়ার ঘোরবিরোধী। তাদের ধারণা, ম্যাকার্থি স্পিকার হলে অর্থনীতিসহ যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। তারা নিজেদের রক্ষণশীল এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই দৌড়ঝাপ শুরু করেন ম্যাকার্থি ও তার সমর্থকরা। নিজ পার্টির বিদ্রোহীদের তারা বিভিন্নভাবে বোঝাতে থাকেন। তাদের নানান ইস্যুতে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেন।
এ অবস্থায় শুক্রবার ১২ দফায় ভোট শুরুর আগে বিদ্রোহীদের নেতা ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান ম্যাট গেটজ তার জোটের সদস্যদের ম্যাকার্থিকে ভোট দিতে আহ্বান জানান। কিন্তু তারপরও ম্যাকার্থিকে প্রয়োজনীয় ২১৮ ভোট নিশ্চিত করতে শুক্রবার চার দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
ইতোমধ্যে উত্যপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিনিধি পরিষদ। বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রিপাবলিকের হাউস সদস্যরা। একপর্যায়ে রিপাবলিকের কংগ্রেসম্যান গেটজ ও মাইক রজার্সের মধ্যে তর্জন-গর্জন ও হাতাহাতির মতো অবস্থা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনাকাঙ্খিত কোনো ঘটনা ঘটেনি।
নির্বাচিত হওয়ার পর এক টুইটে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ম্যাকার্থি লেখেন, ‘একটি উত্তেজনাপূর্ণ সপ্তাহ পার করার পর, আমাদের সবার মধ্যে একটি জিনিস আশা করি পরিষ্কার হয়ে গেছে। আমি কখনও হাল ছাড়ব না। হ্যাঁ, তোমাদের জন্য, আমেরিকান জনগণের বিষয়ে আমি কখনও ক্লান্ত হব না।’
ম্যাকার্থিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। মার্কিন জনগণ তাদের নেতাদের থেকে এমন শাসন আশা করে, যেখানে তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই মুহূর্তে এটাই আমদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’
চাপে পড়বেন বাইডেন
হাউসের নতুন স্পিকার বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির হওয়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বিল পাস করতে হিমশিম খেতে হবে বাইডেন প্রশাসনকে। বাইডেন প্রশাসনের স্বাস্থ্যবিল, ভাতা ব্যবস্থা, ইউক্রেনের সহায়তা উলট-পালট হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, নতুন স্পিকার ম্যাকার্থিসহ রিপাবলিকের অনেক সদস্য বাইডেন ও তার দ্বিতীয় ছেলে হান্টার বাইডেনের ব্যবসার অনিয়ম খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, হাউসের একটি বিশেষ কমিটি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিলের ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রধানহোতা দায়ী করে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা উল্টে দিতে পারে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ হাউস।
হাউসে পূর্বের নাটকীয়তা
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সাধারণত ৩ জানুয়ারি প্রথম দফা ভোটেই স্পিকার নির্বাচন করে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। সর্বশেষ ১০০ বছর আগে ১৯২৩ সালে প্রথম দফায় স্পিকার নির্বাচিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ।
তারও আগে ১৮৫৯ সালে স্পিকার নির্বাচন করতে রীতিমতো ম্যারাথন দৌড় শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে। তখন চারদিকে গৃহযুদ্ধের দামামা বাজছে। ওই অবস্থায় হাউসের স্পিকার নির্বাচন করতে ৪৪ বার ভোট হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে।