প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:১৪ পিএম
অস্ত্র হাতে লায়ন ব্যাটালিয়ন কমান্ডোর সদস্যরা। কারেন রাজ্যের অজ্ঞাত কোনো স্থানে। ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারে গণপ্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর (পিডিএফ) হামলায় ছয় দিনে জান্তা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের অন্তত ১১০ সদস্য নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। একই সময়ে পিডিএফেরও আট সদস্য নিহত হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারির মধ্যে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে জান্তার বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে পিডিএফের বন্দুকযুদ্ধে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
৩১ ডিসেম্বর ভোরে মিয়ানমারের কারেন রাজ্যের কিয়ানসাইকজি টাউনশিপে দেশটির বর্ডার গার্ড ফোর্সের (বিজিএফ) তিনটি ফাঁড়িতে একযোগে হামলা শুরু করে পিডিএফের স্থানীয় একটি বাহিনী। লায়ন ব্যাটালিয়ন কমান্ডো (এলবিসি) নামের ওই বাহিনীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) ভোর পর্যন্ত তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে ৯০ জনের বেশি বিজিএফ সদস্য নিহত হয়। এলবিসির নিহত হয় আট সদস্য।
ছয় দিনের বন্দুকযুদ্ধ শেষে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিজিএফ। এ সুযোগে কিয়ানসাইকজি টাউনশিপে বিজিএফের ওই তিনটি ফাঁড়ি দখল করে নেয় এলবিসি।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পূর্ববর্তী ছয় দিনে মিয়ানমারের সাগাইং, মান্দালয় ও ম্যাগওয়ে অঞ্চলেও পিডিএফ ও জান্তার বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এসব বন্দুকযুদ্ধে জান্তার নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত আরও ২০ সদস্য নিহত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে মিয়ানমারের গণমাধ্যম দ্য ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চি, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ মিয়ানমারের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তার করে দেশটির সেনাবাহিনী। ঘোষণা করে বছরব্যাপী জরুরি অবস্থা। আগের বছরের ডিসেম্বরে সম্পন্ন জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় সেনাবাহিনী। কিন্তু নিজেদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি তারা। অথচ ওই নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছিল সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)।
গত ২২ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার পর মিয়ানমার নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের এটাই প্রথম প্রস্তাব। প্রস্তাবে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ ও রাজনৈতিকবন্দিদের মুক্তি দিতে জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি উত্থাপনের উদ্যোগ নেয় যুক্তরাজ্য। প্রস্তাবে তিন গুরুত্বপূর্ণ দেশ ভারত, চীন ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।
সামরিক অভ্যুত্থানের পরপরই মিয়ানমারের শহরগুলোয় জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমে কঠোর থেকে কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন শুরু করে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
মিয়ানমার বিক্ষোভের তথ্য সংগ্রহকারী প্ল্যাটফরম অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) গত মাসে জানায়, বিক্ষোভ শুরুর পর জান্তার বিভিন্ন বাহিনীর হাতে অন্তত ২ হাজার ৪৬৫ সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তার দ্বিগুণ। আটক হয়েছে ১৬ হাজারের বেশি, যাদের প্রায় ৩ হাজারকে সম্প্রতি সাধারণ মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
জান্তাবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্য সরকার (নাগ) গঠন করেছে। তৈরি করেছে গণপ্রতিরক্ষা বাহিনী (পিডিএফ)। দেশটির প্রায় ২০টির মতো পুরোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে জান্তাবিরোধী জনযুদ্ধ করছে পিডিএফ। তাদের মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে জান্তা সরকার।