প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:১১ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:০০ পিএম
নতুন লাইসেন্স পেয়ে ছুটির মৌসুমে উড়োজাহাজ চালিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী কিশোর ব্রক পিটারস। সঙ্গে ছিল দাদী আর দুই চাচাতো ভাই। কিন্তু মাঝ আকাশে বাঁধে বিপত্তি। বিকল হয়ে যায় প্লেনের ইঞ্জিন। সে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিয়ে কিশোর এখন জায়গা করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, ঘটনাটি গত সোমবার (২ জানুয়ারি) দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার সময় তা ছিল মাটি থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার ফুট উঁচুতে। পাইলটের আসনে বসে পিটারস শুনতে পান ‘বুম’ শব্দ। এর পরপরই বিকল হয়ে যায় ইঞ্জিনটি।
ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করে দেন বিমানে থাকা অন্যান্যরা। কিন্তু সেসবে কান না দিয়ে পিটারস পূর্ণ মনোযোগ দেন জরুরি অবতরণে। কারণ মাত্র চার মাস আগে নেওয়া বিমানচালনা প্রশিক্ষণ থেকে তিনি জানতেন, এরকম পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখাটা কতোটা জরুরি।
প্রথমেই পিটারসকে বেছে নিতে হয় উড়োজাহাজ অবতরণের স্থান। তার হাতে বেছে নেওয়ার মতো জায়গা ছিল দুটি। প্রথমটি নিচে থাকা খোলা মাঠ। আর দ্বিতীয়টি - রাস্তা। সে রাস্তাও অবশ্য যে-সে রাস্তা নয়, ঐতিহাসিক মার্কিন পথ রুট-৬৬।
রুট ৬৬ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কেন্দ্রীয় মহাসড়ক ব্যবস্থা। ১৯২৬ সালে দেশটির ব্যুরো অব পাবলিক রোডসের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়েছিল এটির।
প্রথম বিকল্প থাকা না কথা সমান কথা, কারণ খোলা মাঠে উড়োজাহাজ নামালে পাথুরে মাটি আর এবড়ো খেবড়ো পথে ঘটে যেতে পারে আরো বড় বিপদ।
ফলে দ্রুত ভেবেচিন্তে দ্বিতীয় বিকল্পটিই বেছে নেন পিটারস। উড়োজাহাজ অবতরণ করান রুট-৬৬ এ। একদম রাস্তার মাঝখানে নামিয়ে আনেন উড়োজাহাজ।
তখনো কিন্তু প্রতিবন্ধকতা শেষ হয়ে যায়নি। সামনে রয়েছে রাস্তার বাঁক, পাহাড় এবং ওপাশ থেকে ছুটে আসছে গাড়ি। উড়োজাহাজও ছুটছে আপন গতিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফলভাবেই উড়োজাহাজের গতি সামাল দেন পিটারস। নিরাপদেই সমাপ্তি হয় সব কিছুর।