প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:২১ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:৪৪ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নানান পদক্ষেপ ঘোষণা করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ (মাঝে)। ৩ জানুয়ারি ইসলামবাদে। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান সরকার রাত সাড়ে ৮টায় দোকান-পাট ও ১০টায় কমিউনিটি সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার ( ৩ জানুয়ারি) মন্ত্রীসভার এক বৈঠক শেষে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এ ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে খাসা আসিফ বলেন, ‘বিদ্যুৎবিভাগ জ্বালানি সাশ্রয়ের কিছু পরামর্শ দিয়েছে। সেসব পরামর্শের আলোকে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে ব্যবসায়ীরা কিছুটা বিরক্ত। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের এসব কঠোর সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।’
‘সারা দেশে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে চলতি বছর আমাদের প্রায় ৬২০ কোটি রুপি বা ২৭ কোটি ৩৪ লাখ ডলার সংরক্ষণ করা যাবে। আশা করি, এসব নির্দেশনা সবাই মেনে চলবেন।’
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩০ শতাংশ বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী নেতা দ্য ডনকে বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য এমনিতেই খারাপ। এর মধ্যে সকাল সকাল শপিংমল বন্ধ করলে আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। সরকারের উচিৎ এসব কৃচ্ছ্রসাধনের পদক্ষেপ না নিয়ে সংকট সমাধানের প্রকৃত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’
এদিকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (এসবিপি) মজুদ গত ১৬ ডিসেম্বর ৬১০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা ২০১৪ সাল বা আট বছরের সর্বনিম্ন। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান মজুদ দিয়ে টেনেটুনে এক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে, যার সিংহভাগ ব্যয় হয় জ্বালানি খাতে। এ অবস্থায় বৈদেশিক ঋণ মেটাতে না পেরে যেকোনো সময় পাকিস্তান নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করেন দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতা ইসমাইল।
পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা সংকট নতুন নয়। চলতি সংকট কিছুটা কমাতে ২০১৯ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৬০০ কোটি ডলার ঋণের আলোচনা শুরু করে ইসলামাবাদ। চলতি বছররে শুরুতে তা বাড়িয়ে ৭০০ কোটি ডলার করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনো কিস্তি পাওয়া যায়নি। অথচ দেশটি আইএমএফের কাছ থেকে শিগগির ১১৮ কোটি ডলারের একটি কিস্তি পেতে মরিয়া। এই ১১৮ কোটির কিস্তি পেতেই পাকিস্তানকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আইএমএফ।
এ অবস্থায় পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার দেশটির সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইএমএফের ঋণের বিষয়টি নিয়ে শিগগির বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছে জিওনিউজ। এতে আইএমএফের শর্তগুলো কীভাব পূরণ করা হতে পারে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।