প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো (২০২৬) ও লা নিনো (২০২২) পরিস্থিতির লক্ষণ। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
বিশ্ব অর্থনীতিতে এমনিতেই চোখ রাঙাচ্ছে মূল্যস্ফীতি, তার ওপর দোসর হয়েছে ইরান যুদ্ধ। এই জোড়া ধাক্কার মধ্যেই এবার অশনিসংকেত দিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এ বছর একটি ‘সুপার’ বা অতি শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। এর জেরে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দামে যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হবে, তার রেশ থাকতে পারে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
এবারের এল নিনো ঐতিহাসিকভাবে এতটাই শক্তিশালী হতে পারে যে বিজ্ঞানীরা একে ‘সুপার’ বা ‘গডজিলা’ এল নিনো বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম তাপপ্রবাহ, বন্যা ও ভয়াবহ ঝড়ের শঙ্কা রয়েছে। ইতালীয় ব্যাংক ইউনিক্রেডিটের বিশ্লেষকরা এক গবেষণায় বলেছেন, এল নিনো নতুন করে জলবায়ুজনিত মূল্যস্ফীতিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের মতে, এবারের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্ববাজারে কৃষিপণ্যের দাম ১৫.৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ফসল রোপণ, বৃদ্ধি ও কাটার চক্র ভিন্ন হওয়ায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটবে।
ইউনিক্রেডিটের মতে, চরম এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক কৃষিজ উৎপাদন ১৪.৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। আর্থিক হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
গোল্ডম্যান স্যাকস বলছে, ইতোমধ্যে ভারতে এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সেখানে চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর ফলে গম, চাল ও আখের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খরার কারণে প্রক্রিয়াজাত খাবারের অন্যতম প্রধান উপাদান পাম তেলের পাশাপাশি কফি ও কোকোর উৎপাদনে ধস নামতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকায় ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে এমনিতেই বিশ্বে সার ও জ্বালানির সংকট চলছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে। এর মধ্যে এল নিনোর ধাক্কায় প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর দাম ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ফসল যেমনÑ চাল, পাম তেল, চিনি ও কফির দাম ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতিহাস বলছে, শক্তিশালী এল নিনো সব সময়ই কৃষিতে বিপর্যয় ডেকে আনে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে এমনিতেই চাপে থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলো এই জোড়া ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।