প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম। প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে রবিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। এতে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেশি হয়েছে।
একই সময়ে সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে কমেছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এই জলপথ দিয়ে মাত্র ২২টি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন ১৩০টিরও বেশি জাহাজ এ পথ ব্যবহার করত।
এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়, যখন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর আগে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজে হামলা করেছিল। জবাবে ইরান দাবি করেছে, তারা এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
কেপলারের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষণা প্রধান আমেনা বকর বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা প্রায় পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, “আস্থা খুব দ্রুত ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি এখন আবার আগের অনিশ্চয়তার জায়গায় ফিরে গেছে।”
এদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে সেই পুনরুদ্ধার টেকসই হবে না।
আমেনা বকর আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বারবার উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি বাজার এখন অনেকটাই এমন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।
তার ভাষায়, “বাজার এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। তবে তেলের দামের ওঠানামা এখনো প্রকৃত পরিস্থিতি বা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির মাত্রাকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করছে না।”
সূত্র: আনাদলু