বিবিসি
প্রকাশ : ১৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত সপ্তাহে আবার পাল্টপাল্টি হামলা শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ছবি: রয়টার্স
ইরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিলেও সেটি নৌ-চলাচলের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অঞ্চলটিতে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং চরম উত্তেজনার মধ্যেই রবিবার ওয়াশিংটন তাদের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
চলতি সপ্তাহে শুরু হওয়া এই সংঘাত শনিবার ভয়াবহ রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে ১৪০টিরও বেশি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। মূলত সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি’তে ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই বিশাল অভিযান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র।
ওই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন ক্রু নিখোঁজ হন। ইরান এই হামলাকে ‘ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিলেও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একে সুপরিকল্পিত বলে দাবি করেছে।
প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ইরান রবিবার ভোরে এটি বন্ধ ঘোষণা করে। একই দিনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ফলে গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানি হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ। তবে মধ্যস্থতাকারীরা শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “একতরফা চুক্তির যুগ শেষ।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে চড়া মাসুল দিতে হচ্ছে। সেন্টকমের অভিযানে ইরানের মিসাইল সাইট ও উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করছে।