বিবিসি
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
শিশুদের মোবাইল ফোন আসক্তি। ছবি: বাসস
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা (ডিজাইন) পরিবর্তন করতে মেটা কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
সংস্থাটির অভিযোগ, ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসক্ত রাখতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এই ‘আসক্তি সৃষ্টিকারী’ নকশা পরিবর্তন না করলে মেটাকে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ (শেষহীন স্ক্রল), ভিডিওর ‘অটো-প্লে’ এবং ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী কন্টেন্ট দেখানোর ‘পার্সোনালাইজড রেকমেন্ডেশন’—এর মতো ফিচারগুলো ব্যবহারকারীদের ‘বাধ্যতামূলক ব্যবহারে’ প্ররোচিত করছে।
জরিমানার ঝুঁকি ও ইইউর অভিযোগ
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেটা যদি ইইউর নির্দেশ অনুযায়ী উপযুক্ত পরিবর্তন না আনে, তবে কোম্পানিটির মোট বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। কমিশনের মতে, কন্টেন্টের এই অবিরাম ধারা ব্যবহারকারীর মস্তিষ্ককে ‘অটোপাইলট মোডে’ পাঠিয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের জন্ম দিচ্ছে।
ইইউ-এর টেক প্রধান হেনা ভির্কুনেন এক বিবৃতিতে বলেন, “ইউরোপীয় নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”
কমিশন আরও উল্লেখ করেছে যে, রিলস এবং স্টোরিজের মতো ফিচারগুলো অতিরিক্ত ব্যবহারের পথ তৈরি করছে এবং মেটার বর্তমান সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো কিশোরদের রক্ষায় মোটেও পর্যাপ্ত নয়।
মেটার অবস্থান
তবে মেটা এই তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেন, “কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, এই তদন্তে তার প্রতিফলন ঘটেনি।”
মেটার দাবি, তারা ইতিমধ্যেই ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ চালু করেছে, যা কিশোরদের সুরক্ষা দেয় এবং অভিভাবকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অর্পণ করে। এর মাধ্যমে রাতে অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ রাখা বা দৈনিক সময়সীমা নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।
বাড়ছে বৈশ্বিক চাপ
ইইউর এই কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে তোড়জোড় চলছে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশও এখন একই পথে হাঁটার কথা ভাবছে।
বর্তমানে ইইউর এই পর্যবেক্ষণগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মেটা এই প্রমাণগুলো পর্যালোচনার সুযোগ পাবে এবং শীঘ্রই তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দাখিল করবে।
আগামী সোমবার শিশুদের ক্ষতিকর অনলাইন কন্টেন্ট থেকে রক্ষা করার বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বিস্তারিত সুপারিশ প্রকাশের কথা রয়েছে।