প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৫৫ মিনিট আগে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি: বাসস
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিমানবন্দরটির নতুন নামকরণ করা হয় ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফ্লোরিডাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেকেন্ড হোম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে তার বিশ্বখ্যাত রিসোর্ট ‘মার-এ-লাগো’ অবস্থিত। মূলত এই অঞ্চলে ট্রাম্পের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের স্বীকৃতিস্বরূপ এই নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় না পুরো ফ্লোরিডায় পাম বিচের নামের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সমর্থক আর কেউ আছেন।”
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, যুদ্ধজাহাজ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সঙ্গে তার নাম যুক্ত করার একটি ধারা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে নৌবাহিনীর বিশেষ শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা প্রোগ্রাম, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ওয়েবসাইট এবং শিশুদের জন্য ফেডারেল সেভিংস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসির ‘ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস’ ভবনেও তার নাম যুক্ত করা হয়েছে। তবে জন এফ কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের একটি প্রচেষ্টা আইনি জটিলতায় সফল হয়নি।
গত মার্চ মাসে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডেসান্টিস বিমানবন্দরটির নাম পরিবর্তনের বিলে স্বাক্ষর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বিমানবন্দরের তিন অক্ষরের আন্তর্জাতিক কোড ‘পিবিআই’ পরিবর্তন করে ‘ডিজেটি’ (ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত রূপ) নির্ধারণ করেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নাম পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫৫ লাখ (৫.৫ মিলিয়ন) ইউ ডলার ব্যয় হয়েছে।
তবে নতুন কোডটি এখনই পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হচ্ছে না। যাত্রীরা আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত পুরনো ‘পিবিআই’ কোড ব্যবহার করেই টিকিট বুক করতে পারবেন। ওই তারিখের পর থেকে ট্রাভেল ব্যাগ, টিকিট এবং এয়ারলাইন রিজার্ভেশন সিস্টেমে নতুন ‘ডিজেটি’ কোডটি দৃশ্যমান হবে।
নতুন নামে বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের পর প্রথম ফ্লাইট হিসেবে এরিক ট্রাম্পের একটি ব্যক্তিগত বিমান সেখানে অবতরণ করে। ভোররাতে অবতরণ করা এই ফ্লাইটের বিষয়ে এরিক ট্রাম্প বলেন, “আমি কোনোভাবেই চাইনি যে ইউপিএস-এর (পণ্যবাহী বিমান) কোনো বিমান এখানে প্রথম অবতরণ করুক।”
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নামে বিমানবন্দরের নামকরণ নতুন কিছু নয়। এর আগে আরকানসাসের লিটল রক বিমানবন্দরের নাম সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনের নামে রাখা হয়েছিল। এছাড়া লাস ভেগাস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসেও সাবেক আইনপ্রণেতাদের নামে বিমানবন্দর রয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের পুরোনো কোড অপরিবর্তিত রাখা হলেও ট্রাম্পের ক্ষেত্রে কোড পরিবর্তন একটি বড় ব্যতিক্রম।