× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

জন্মশহর মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন আজ

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইসলামের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা ও শিয়াদের প্রথম ইমাম হযরত আলীর মাজারে নেওয়া হয়। ছবি: রয়টার্স

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইসলামের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা ও শিয়াদের প্রথম ইমাম হযরত আলীর মাজারে নেওয়া হয়। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে আজ তার জন্মশহর মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হচ্ছে।

এর আগে তার মরদেহ প্রতিবেশী দেশ ইরাকে নেওয়া হয়। বুধবার সেখানে শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় লাখো মানুষ এই নেতার কফিন ঘিরে বিশাল শোকযাত্রায় অংশ নেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। তার মৃত্যুতে ইরানে গত শনিবার থেকে টানা ছয় দিনের শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে খামেনির কফিন ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে এই দীর্ঘ শোক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইরান মূলত নিজেদের শক্তি, সংহতি ও ঐক্যের বার্তাই পুরো বিশ্বকে দিতে চাইছে।

নাজাফে মানুষের ঢল

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ইরাকের কর্তৃপক্ষ বুধবারকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় নাজাফে শুরু হয় মূল শোকযাত্রা। খামেনির কফিন শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইসলামের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা ও শিয়াদের প্রথম ইমাম হযরত আলীর মাজারে নেওয়া হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদক জ্যাক হিউসন নাজাফ থেকে জানান, “মক্কা ও মদিনার পর নাজাফ হলো শিয়া মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র স্থান। বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনে এখানে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। তবে খামেনির শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের ঢল ছিল স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ। নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা না গেলেও সেখানে যে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল, তা একেবারেই স্পষ্ট”।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ গ্রহণ করেন ইরাকের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তারা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনির বড় ছেলে মোস্তফা হোসেইনি খামেনি।

কারবালায় শ্রদ্ধা নিবেদন

নাজাফে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে খামেনির মরদেহ নেওয়া হয় প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরের শহর কারবালায়। সেখানে শিয়াদের তৃতীয় ইমাম হযরত হোসাইন ও তার ভাই আব্বাসের মাজারে আরেক দফা শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি দুই দেশের এই আত্মিক বন্ধনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইরাকের সরকার ও জনগণের এই ঐতিহাসিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই মহান জাতির গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বিষয়টিই আজ পুরোবিশ্বের সামনে ওঠে এসেছে।’

খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভ্রমণ করে নাজাফে এসেছিলেন ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ আল-বায়াতী। তিনি বলেন, ‘যিনি আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রবল ক্ষমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, তার শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার এই সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যায় না।’

বাবার মৃত্যুর পরপরই নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনিকে এখনও জনসমক্ষে দেখা যায়নি। দাফন অনুষ্ঠানের কোনো আয়োজনেই তিনি উপস্থিত ছিলেন না। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে বিমান হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছেন, তাতে মোজতাবাও আহত হন। তবে তার আঘাত কতটা গুরুতর, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

ইরাকের পবিত্র শহরগুলোতে এই বিশাল শোকযাত্রা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আজ খামেনির কফিন নেওয়া হচ্ছে উত্তর-পূর্ব ইরানের শহর মাশহাদে। নিজের এই জন্মশহরেই আজ তিনি চিরশায়িত হচ্ছেন। 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা