প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সিএনএন
আবারও নিজের বক্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ন্যাটো সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় বুধবার ভুলবশত ইরানকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব জাপান’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্রাম্পকে ইউক্রেনের নিজস্ব প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিবরণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব জাপান আমাদের ওপর ১১১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সেগুলো আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর দিকে ছোড়া হয়েছিল”।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে বলেছে এখানে তিনি আসলে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’ বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভুল করে ‘জাপান’ বলে ফেলেন। কারণ জাপান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির সঙ্গে ইসলামের কোনো রাষ্ট্রীয় পরিচয় নেই। অন্যদিকে ইরানের সরকারি নাম হলো ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’।
আব্রাহাম লিংকন নিয়ে ট্রাম্পের দাবি
বক্তব্যে ট্রাম্প বিশ্বের অন্যতম বড় ও শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের প্রশংসা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান একসময় এই জাহাজকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আগেই জানিয়েছিল, ওই রণতরী কোনো হামলার শিকার হয়নি এবং ইরানের দাবি সঠিক নয়।
ইরানকে নতুন হুমকি
একই বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “তাদের নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী নেই—সব শেষ হয়ে গেছে”।
এ সময় তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খার্গ দ্বীপের মতো তেল রপ্তানি কেন্দ্রেও হামলা চালাতে পারে”।
ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা যদি চাই, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করতে পারি। আমি সেটা করতে চাই না, কিন্তু প্রয়োজন হলে করব”।
তিনি আরও দাবি করেন, খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে এবং প্রয়োজনে সেটির নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে।
কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে হতাশা
ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে স্থায়ী কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সময়ের অপচয়। যদিও তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা চাইলে আলোচনা অব্যাহত রাখতে পারেন”।
নতুন নয় এমন বিতর্ক
২০২৬ সালে ট্রাম্পের এ ধরনের ভাষাগত ভুলের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে একই ন্যাটো সম্মেলনে তিনি ভুল করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলে সম্বোধন করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল সংশোধন করেন।
এ ধরনের একাধিক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ন্যাটো সম্মেলনেও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভুলবশত জেলেনস্কিকে ‘পুতিন’ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। পরে তিনিও সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল সংশোধন করেন।