প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ন্যাটো মিত্র স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বুধবার তিনি এই বিস্ফোরক ঘোষণা দেন।
ট্রাম্পের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং সম্ভাব্য ইরান যুদ্ধ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইউরোপীয় নেতারা আশা করেছিলেন যে আঙ্কারার এই শীর্ষ সম্মেলন সামরিক জোটের অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূর করতে সাহায্য করবে। তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ উল্টো স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিবাদকে নতুন করে উস্কে দিল।
ট্রাম্প স্পেনকে একটি ‘ভয়ঙ্কর অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে সাফ জানিয়ে দেন, মাদ্রিদের সঙ্গে ওয়াশিংটন আর কোনো বাণিজ্যিক চুক্তিতে থাকছে না।
ন্যাটোর জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের নতুন লক্ষ্যমাত্রায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে স্পেনের অস্বীকৃতির কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্প তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে এ নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত মার্চ মাসেও তিনি একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তবে সে সময় দুই দেশের বাণিজ্য স্বাভাবিক ছিল। এবার দ্বিতীয়বারের মতো এই নির্দেশ আসায় বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, “স্পেন কোনো কিছুতেই রাজি নয়, এবং আপনাদের তাদের ওপর ভরসা করা উচিত নয়”। পরে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টায় ট্রাম্প বলেন, স্পেন গত বছর তাদের সামরিক ব্যয় ২ শতাংশে উন্নীত করে ‘একটি বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে’। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, “এখনও কিছু সমস্যা রয়েছে যা আমাদের সমাধান করতে হবে”।
ইরান যুদ্ধ ও সামরিক ঘাঁটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন ক্ষোভের পেছনে কেবল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনাই নয়, ইরান ইস্যুও বড় ভূমিকা রাখছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ—যিনি একটি সংখ্যালঘু বামপন্থী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে স্পেনের আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সানচেজের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই স্পেনের প্রতি বারবার চরম হতাশা প্রকাশ করে আসছিলেন ট্রাম্প।
এদিকে স্পেনের পাশাপাশি ন্যাটোর আরেক মিত্র ডেনমার্কের ওপরও ক্ষোভ ঝেড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত বলে ট্রাম্প পুনরায় দাবি করলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ডেনমার্ক।
ডেনিশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।