অনাবৃষ্টির কারণে খরা। ছবি: ডেইলি সাবাহ
এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।
ডব্লিউএমওর বিজ্ঞানী আলভারো সিলভা জানিয়েছেন, এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে অতিরিক্তভাবে গরম করে তুলবে।
তার ভাষায়, “এল নিনোর বছরে সাধারণত বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়ে”।
ডব্লিউএমওর মাসিক গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট অনুযায়ী, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ইতোমধ্যে এল নিনো সৃষ্টি হয়েছে এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাধারণত এল নিনো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছে। তবে এবার তার ব্যতিক্রম দেখা মিলবে।
ডব্লিউএমওর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেলের তথ্য অনুযায়ী নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যবেক্ষণাধীন এলাকাগুলোতে মৌসুমি গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে।
ডব্লিউএমওর মুখপাত্র ক্লেয়ার নালিস বলেন, “জুলাই সাধারণত বছরের সবচেয়ে উষ্ণ মাস হলেও জুনেই ইউরোপের অনেক দেশে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা গেছে”।
তিনি জানান, জার্মানিতে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা দেশটির নতুন জাতীয় রেকর্ড।
ডব্লিউএমও আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে বর্ষাকালে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ব আফ্রিকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল সক্রিয় হলে ওই অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থা, এর সদস্য দেশ এবং আঞ্চলিক জলবায়ু কেন্দ্রগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে করে বিভিন্ন দেশের সরকার সময়মতো পূর্বাভাস পেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।
আলভারো সিলভা বলেন, “আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এখনো কিছু সময় রয়েছে, তবে অনেক অঞ্চলে সেই সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে”।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় খরার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো ও লা নিনা হলো এল নিনো–সাউদার্ন অসিলেশন (ইএনএসও) এর দুটি বিপরীত ধাপ। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এল নিনো দেখা দেয় এবং এটি নয় থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এর প্রভাব বিশ্বের সব অঞ্চলে সমান নয়। তীব্রতা, স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য জলবায়ুগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
ডব্লিউএমওর ভাষ্য, এল নিনোর তীব্রতা যত বাড়ে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া ও জলবায়ুগত দুর্যোগের ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।