প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সড়কের পাশে ছিটকে পড়া বৌদ্ধ ভিক্ষুদের গেরুয়া পোশাক, ব্যক্তিগত সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ছবি: এক্স
থাইল্যান্ডে তীর্থযাত্রায় যাওয়ার পথে ১১ বছরের এক শিশুর গাড়িচাপায় অন্তত ৯ জন ভিক্ষুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুকদাহান প্রদেশে বৃহস্পতিবার এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশের বরাতে এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গাড়িটি মাত্র ১১ বছর বয়সী এক কিশোর চালাচ্ছিলো। ওই কিশোর পরিবারের অনুমতি ছাড়াই পিকআপটি নিয়ে বেরিয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।
আল জাজিরা বলছে, ঘটনাটি ঘটে যখন ৩৫ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পাঁচজন সাধারণ অনুসারী পদযাত্রায় অংশ নিয়ে একটি সড়কের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যেই তাদের দলটিকে চাপা দেয় ঘাতক গাড়িটি।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সড়কের পাশে ছিটকে পড়া বৌদ্ধ ভিক্ষুদের গেরুয়া পোশাক, ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া পিকআপ ট্রাক দেখা যায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন ভিক্ষুর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মারা যান। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজনকে তুলনামূলক কম গুরুতর আঘাত নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মুকদাহান হাসপাতাল আহতদের চিকিৎসা চলছে।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ভিক্ষু ফ্রা সোমপং জানান, তারা ধ্যানমন্ত্র “বুদ্ধো, বুদ্ধো” জপ করতে করতে হাঁটছিলেন। হঠাৎ একটি পিকআপ ট্রাক দ্রুতগতিতে তাদের দিকে ছুটে এসে ধাক্কা দেয়।
তার ভাষায়, “আমি দেখলাম একটি ছেলে পিকআপ চালিয়ে আমাদের দিকে আসছে। মুহূর্তের মধ্যেই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমাদের ওপর উঠে যায়। আমি ও আরেকজন ভিক্ষু দ্রুত সরে যেতে পেরেছিলাম। তবে সামনে থাকা কয়েকজন বেঁচে গেলেও পেছনের অনেক ভিক্ষু আঘাতে ছিটকে পড়েন”।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বাড়িতে শিশুটি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। অসুস্থ থাকায় সেদিন সে স্কুলেও যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা গাড়িটি খুঁজে না পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
মুকদাহান প্রদেশের পুলিশ প্রধান মেজর জেনারেল পাইরোজ থাইফুৎসা জানান, শিশুটির বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, “শিশুটি বর্তমানে তার অভিভাবক ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু”।
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মুকদাহানের গভর্নর ওয়ারায়ান বুন্নারাত বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা।
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করেছি। এই ঘটনা শুধু আমাদের প্রদেশ নয়, পুরো দেশের মানুষের জন্য শিক্ষা হওয়া উচিত। বিশেষ করে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে”।