দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৫ সালের ৯ই মে এক কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া রুশ সৈন্যরা। ছবি: রয়টার্স
রুশ সেনাদের গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন। গত বছর রুশ বাহিনীকে চীনের গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
অন্তত চারজন রুশ ও চীনা জেনারেল সরাসরি যুক্ত ছিলেন এই কাজে। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণে এত উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে রাশিয়া ও চীনের কাছে সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বেইজিং এ ধরনের প্রশিক্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেছে। এক গোপন রুশ নথিতে বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ইউরোপে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভের জারি করা একটি নথির সন্ধান পেয়েছে রয়টার্স।
নথিতে বলা হয়, বেলোসভের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিতে চীনে যায়। এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর বিভিন্ন স্থাপনায়।
প্রতিবেদনে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, নভেম্বর মাসে বেইজিংয়ের একটি সামরিক স্থাপনায় তিন সপ্তাহব্যাপী রেডিওলজিক্যাল, রাসায়নিক ও জৈবিক সুরক্ষাবিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
ওই প্রতিবেদন এবং আরেকটি প্রতিবেদনে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণের ছবি ও বর্ণনা রয়েছে।
সেখানে দেখা যায়, একজন চীনা প্রশিক্ষক রুশ সেনাদের পাঠ দিচ্ছেন, তারা একটি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের মডেল পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ‘রাসায়নিক অনুসন্ধান, বিকিরণ এবং দূষণ থেকে বায়ুচলাচল ব্যবস্থা সুরক্ষার কৌশল শিখাচ্ছেন।
তবে রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিবেদনে উত্থাপিত সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।