পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনে প্রকাশিত কার্টুন। ছবি: স্কিনশর্ট
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে পাকিস্তান-ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কীভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে, তার এক নিপুণ ও ব্যঙ্গাত্মক চিত্র তুলে ধরেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন।
পত্রিকাটির সম্পাদকীয় পাতায় শুক্রবার প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট জহুরের তুলিতে আঁকা একটি কার্টুন এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
কার্টুনের রূপক ধর্মী উপস্থাপন
কার্টুনিস্ট জহুর তার শিল্পকর্মে দেখিয়েছেন, ‘পাক-ইরান ট্রেড’ (পাক-ইরান বাণিজ্য) লেখা একটি পণ্যবাহী মিনিভ্যান পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ‘স্যাঙ্কশন্স’ (নিষেধাজ্ঞা) খচিত একটি বিশাল পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গাড়িটির সম্মুখভাগ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। চালকের আসনে বসা ব্যক্তির চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে চরম বিস্ময় ও দুশ্চিন্তা—যা মূলত দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের বর্তমান মানসিক অবস্থারই প্রতিফলন।
ভূ-রাজনীতির রূঢ় বাস্তবতা
বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি রেখাচিত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতির জটিল বাস্তবতাকে অত্যন্ত সহজভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তীব্র জ্বালানি সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানের জন্য প্রতিবেশী ইরান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল ও গ্যাস আমদানি করা এখন সময়ের দাবি। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান পরমাণু ও কৌশলগত সংলাপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে সাময়িকভাবে ৬০ দিনের জন্য তেল বাণিজ্যের বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এই ক্ষণস্থায়ী সুযোগটি পাকিস্তানের সামনে নতুন আশার আলো দেখালেও বাস্তবতা ভিন্ন।
বিদ্যমান সংকট ও প্রতিবন্ধকতা
পাকিস্তান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, ইরানের সঙ্গে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা পুরোপুরি নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেওয়ার ওপর। কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই চলে না, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাংকিং জটিলতা ও পেমেন্ট চ্যানেলের অভাব একটি বড় বাধা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার খড়গের ভয়ে বড় বড় আন্তর্জাতিক শিপিং ও বিমাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো এই বাণিজ্যে যুক্ত হতে চরম দ্বিধাবোধ করছে।
শিল্পীর মূল বার্তা
কার্টুনিস্ট জহুর তার রেখার জাদুতে এটিই বুঝিয়েছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্যের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ওই ‘বিশাল পাথরটি’ রাস্তা থেকে না সরানো পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতির চাকা সচল হওয়া অসম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্টুনটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার জটিল ভূ-অর্থনৈতিক সমীকরণকে সাধারণ পাঠকদের কাছে এক লহমায় স্বচ্ছ করে তুলেছে।