স্বজনদের অপেক্ষায় পরিবার
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের তাণ্ডব: ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কয়েকশ মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা। ছবি: বিবিসি/ রয়টার্স
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকায় উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিখোঁজ স্বজনদের খবরের আশায় ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছেন সাধারণ মানুষ।
বিবিসি শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
তীব্র ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার অভিযান
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির উত্তরাঞ্চলের কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে। আহতদের অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েকশ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী ইতিমধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছেন এবং আরও অনেকে আসার পথে রয়েছেন।
গত বুধবার কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এর মধ্যে দ্বিতীয় কম্পনটি ছিল ৭.৫ মাত্রার, যা গত এক শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানী কারাকাসের ঠিক উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা নামের অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রদেশেই দেশটির অন্যতম প্রধান বন্দর এবং প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (সিমোন বলিভার বিমানবন্দর) অবস্থিত। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আর্তনাদ ও স্বজনদের আকুতি
লা গুয়াইরার বাসিন্দা নাতাশা দিয়াজ বিবিসিকে জানান, একটি ধসে পড়া শপিং সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের নিচে তার দুই মেয়ে (বয়স ২২ ও ২৩ বছর) আটকে আছেন। সেখানে তারা ম্যানিকিউরিস্ট হিসেবে কাজ করতেন।
কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি কেবল ওদের ফিরে পেতে চাই। ওরাই আমার সব, দয়া করে ওদের ফিরিয়ে দিন।”
সরকারের ভাষ্য
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, নিহতের সংখ্যা ৯২০ জনে পৌঁছেছে এবং কমপক্ষে ১৭২ জন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু লা গুয়াইরা থেকেই অন্তত ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক ব্রিফিংয়ে জানান, ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ২১৪ বার আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে যা আমাদের জন্য আনন্দের, কারণ তারা তাদের পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছেন।
বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো
হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে হাসপাতাল ও শপিং সেন্টারসহ কয়েকশ ভবন ধসে পড়েছে এবং অন্তত এক হাজার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুর্যোগের আগে থেকেই ভেনেজুয়েলার হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জামের তীব্র সংকট ছিল।
চিকিৎসক পেদ্রো জাভিয়ের ফার্নান্দেজ বলেন, “আমাদের হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। সাধারণ সময়েই আমরা সেবা দিতে হিমশিম খাই, এখন এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অন্য দেশের তুলনায় আমাদের জন্য অনেক বেশি কঠিন।”
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট এবং সম্পদের অভাবে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় উদ্ধারকর্মীরা খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
আন্তর্জাতিক সহায়তা
বিপর্যয় মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন দেশ। যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক বিমান বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর ও ড্রোন নিয়ে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, মেক্সিকো এবং সুইজারল্যান্ডও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ ও পরিবহন বিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।