নিউ ইয়র্ক পোস্ট
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
ভূপাতিত হওয়া একটি ইউএস এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অংশবিশেষ। ছবি: নিউ ইয়র্ক পোস্ট/ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া এক পাইলটের বয়ানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরানি ড্রোনের সক্ষমতা ও অদ্ভুত গঠন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে ওই পাইলট একে ‘ভিনগ্রহীদের কারসাজি’ বলে অভিহিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, গত এপ্রিলে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন ওই পাইলট।
তার ভাষ্য, ইরানি ড্রোনগুলো আকাশে ‘জেলিফিশ’-এর মতো দলবদ্ধভাবে বিচরণ করছিল। বড় ড্রোনের নিচে ছোট ছোট ড্রোনগুলো এমনভাবে যুক্ত ছিল, যা দেখতে শুঁড়ের মতো লাগছিল। এগুলো একটি একক সত্তার মতো নিখুঁত তালে নড়াচড়া করছিল, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এই ‘ড্রোনের মাইনফিল্ডের’ কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
‘গুড ফ্রাইডে’র দিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। পরে পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও বিমানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একজন ‘উইপনস সিস্টেম অফিসার’ দুর্গম জাগরোস পর্বতমালায় আটকা পড়েন। তার মাথার ওপর ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে ইরান। মাত্র একটি হ্যান্ডগান সম্বল করে সাত হাজার ফুট উচ্চতায় শত্রুসেনাদের এড়িয়ে ৩৬ ঘণ্টা আত্মগোপন করে থাকেন তিনি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনগুলো ওপর থেকে অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তাকে সুরক্ষা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিশেষ বাহিনী ‘সিল টিম সিক্স’ ইরানি ভূখণ্ডের গভীরে ঢুকে এই উদ্ধার অভিযান চালায়। প্রযুক্তি যাতে ইরানিদের হাতে না পড়ে, সেজন্য কাদার মধ্যে আটকে যাওয়া ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টার নিজেরাই ধ্বংস করে দেয় কমান্ডোরা। এছাড়া সিআইএ ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ইরানি বাহিনীর তল্লাশি শিথিল করার কৌশল নেয়।
পাইলটের এই অদ্ভুত বর্ণনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের মধ্যে কিছুটা সংশয় রয়েছে। তাদের ধারণা, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সময় মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে পাইলটের স্মৃতিতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
সংঘাতের ইতিহাসে ইরানি আকাশসীমায় কোনো ইউএস যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। শেষ পর্যন্ত বড় কোনো হতাহত ছাড়াই পর্বতে আটকে পড়া ওই কর্মকর্তাসহ সিল টিমের সদস্যরা নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হন।