প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও কাঁচামালের ক্ষেত্রে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, নতুন এই আইন ইইউভুক্ত কোম্পানিগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের জন্য বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজতে বাধ্য করতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুন ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ নেতাদের শীর্ষ বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। পাশাপাশি, নতুন বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তাও মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও বৈঠকের চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে চীনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক। ফন ডার লেয়েন বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। এ কারণে ইউরোপীয় কমিশন বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক নীতি ও ব্যবস্থা প্রণয়নের কাজ করছে।
বিশেষ করে, গত বছর চীন বিরল মৃত্তিকা উপাদান রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তি হওয়ায় চীনের এ পদক্ষেপ ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ফন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা চাই কোম্পানিগুলো নিজেরাই দ্রুত ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ নিক। যদি তারা কার্যকরভাবে সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্যময় করতে পারে, তাহলে অতিরিক্ত আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নাও হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। পরিসংখ্যানই বাস্তবতা তুলে ধরছে, এবং আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
এদিকে, জি-৭ভুক্ত দেশগুলোও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে নির্ভরতা কমাতে সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন জি-৭ দেশগুলোর প্রতি বাজার অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং ‘ছোট গোষ্ঠীভিত্তিক’ উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপদ ও বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমানোই বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।