কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পর প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান ও পরিচিতি গড়ে উঠেছিল।
সেই দলেই তার নেতৃত্ব হারানো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন নজর থাকবে নতুন নেতৃত্বের অধীনে দল কতটা সফলভাবে নিজেদের পুনর্গঠন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিরোধী রাজনীতিতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।
কলকাতার নিউটাউনের একটি হোটেলে সোমবার অনুষ্ঠিত দলের বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর অংশ নেন। বৈঠকের নেতৃত্ব দেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠকের শুরুতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। সর্বশেষ ২০২২ সালে কমিটি গঠিত হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। এ কারণেই জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।
এরপর সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে ধ্বনি ভোটে অরূপ রায়কে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় দলের সহসভাপতি করা হয়েছে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথিন ঘোষ ও সাবিনা ইয়াসমিনকে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামান আনসারিকে। পাশাপাশি অতীতের আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য নিরীক্ষক নিয়োগের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু নেতৃত্ব বদলের ঘটনা নয়; বরং দলের অভ্যন্তরে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে ওঠার ইঙ্গিত বহন করছে। রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের ভেতরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই বৈঠককে তার প্রকাশ্য প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে।