সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৯ মিনিট আগে
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি। ছবি: বাসস
জীবিকার তাগিদে এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের আশায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে কর্মরত ছিলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী। প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হলেও সেদিনের যাত্রাই হয়ে ওঠে তাদের জীবনের শেষ যাত্রা।
কাতারের আল শাহানিয়া শহরের সামাল সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ হারান তারা। একই ঘটনায় একজন ভারতীয় নাগরিকও নিহত হয়েছেন। কাতারের স্থানীয় সময় রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে (বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টা) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি এলাকার আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন এবং মাঝতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ। তারা কাতারে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “কাতারের আল শাহানিয়ার সামাল এলাকায় পাঁচ বাংলাদেশির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ দেশে পাঠানো হবে। তবে কবে নাগাদ মরদেহ দেশে পৌঁছাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না”।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালে বাসা থেকে একসঙ্গে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ওই পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসী। পথে আল শাহানিয়ার সামাল এলাকায় তাদের বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় একজন ভারতীয় চালকও নিহত হন।
দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহমুদ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। একই এলাকার পাঁচজনের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় পুরো ইউনিয়ন ও কানাইঘাটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, মর্মান্তিক এ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।